জাহাজ আগমনে নজির সৃষ্টি করলো মোংলা বন্দর

সাত দশকের রেকর্ড ভঙ্গ করে প্রথমবারের মতো বাণিজ্যিক জাহাজ আগমনে নজির সৃষ্টি করেছে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্রবন্দর মোংলা।

মোংলা বন্দরের আউটার ও ইনারবার ড্রেজিংয়ের কারণে অধিক ড্রাফটের জাহাজ অনায়াসে ভিড়তে পারছে। সৃষ্টির ৭০ বছরে এই প্রথম রেকর্ড সংখ্যক জাহাজ ভেড়ে এখানে। সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে ১৩০ কোটি টাকা মুনাফা অর্জন হয়েছে বলে জানান মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের কর্মচারী সংঘের যুগ্ম সম্পাদক মতিয়ার রহমান সাকিব। গত বছর যা ছিল ১১৭ কোটি টাকা।

করোনাকালেও অবিরাম পরিশ্রম করায় শ্রমিক কর্মচারীদের ঝুঁকি বা প্রণোদনা ভাতা দেয়ার দাবি জানান মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ এর প্রধান অর্থ ও হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা মো: সিদ্দিকুর রহমান। আর মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ মুসা জানিয়েছেন জেটির অভ্যন্তরে আধুনিক যন্ত্রপাতি সংযোজন করা হয়েছে, চলমান ৯টি প্রকল্পের কাজ শেষ হলে কার্যক্রম আরো বেগবান হবে।

মোংলা বন্দর দিয়ে মূলত কয়লা, পাথর, খাদ্যশস্য, রিকন্ডিশন্ড গাড়ি, যন্ত্রাংশ, খেলনা, কসমেটিক্স, ইলেক্সট্রনিক্স, কাপড় প্রভৃতি পণ্য আমদানি করা হয়। বিপরীতে রফতানি হয় চিংড়িসহ হিমায়িত মাছ, পাট ও পাটজাত পণ্যসহ নানারকম পণ্য।

১৯৫০ সালে বৃটিশ জাহাজ দ্য সিটি অব লায়নসের সুন্দরবনের পশুর নদীর জয়মনিরগোল নামক স্থানে নোঙর করার মাধ্যমে মোংলা বন্দরের সূচনা হয়। ৯০ দশকের দিকে রুগ্ন এবং ২০০১ সাল থেকে ২০০৮ অর্থবছরে লোকসানি প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়। ২০০৯ সালে বর্তমান সরকারের নানামুখী উদযোগে বন্দরটি ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করে।

জানাযায়, সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে বন্দরটিতে ৯৭০টি বাণিজ্যিক জাহাজ নোঙর এবং ১৪ হাজার ৪৭৪টি গাড়ি অবতরণ ও ৪৩ হাজার ৯৫৯টি ব্যবহৃত কন্টেইনার খালাস ও বোঝাই হয়েছে। এতে করোনাকালেও বেড়েছে রাজস্ব আয়। একে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন ব্যবসায়ী, বন্দর ব্যবহারকারী ও সংশ্লিষ্টরা।

Recommend to friends
  • gplus
  • pinterest

About the Author