বর্ষার শুরুতেই রাঙামাটিতে পাহাড় ধসের শঙ্কা দেখা দিয়েছে। তাই ঝুঁকিতে বসবাসরত এসব লোকজনকে নিরাপদে সরাতে জেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে মাঠে কাজ করছে, টাস্কেেফার্স ও বিশেষ কয়েকটি টিম। ইতোমধ্যে বেশকিছু মানুষকে সরকারি আশ্রয় কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে, জেলা প্রশাসন ও টাস্কফোর্স। তারপরও বসতি ছাড়তে রাজি নয় হাজারো পরিবার। উল্টো তোড়জোড় চলছে, নতুন করে ঘরবাড়ি নির্মাণের।

বর্ষাকাল শুরু হলেই রাঙামাটিতে জনমনে তৈরি হয় পাহাড়ধসের শঙ্কা। তবুও ঝুঁকিপূর্ণ বাড়িঘরে বসবাস করছে বহু লোকজন। শহরে বসবাসরত ঝুঁকিপূর্ণ লোকজনকে নিরাপদে সরাতে শুক্রবার (১৮ জুন) সন্ধ্যা হতে মাঠে নেমেছে জেলা প্রশাসন।

জেলা প্রশাসক মো. মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ, আনসার, ভিডিপি, রেডক্রিসেন্ট, রোভার স্কাউট দলের সদস্য এবং পৌরসভার স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলররা এলাকায় গিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ লোকজনকে নিরাপদে সরে যেতে উদ্বুদ্ধ করছেন। এলাকায় গিয়ে মাইকিংয়ে সতর্কবার্তা প্রচার করা হচ্ছে।

জেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে শুক্রবার (২৮ ‍জুন) রাতে শহরের ভেদভেদী লোকনাথ মন্দির এলাকা, রুপনগর, টিভি ভবন এলাকাসহ বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার ২৫ জনকে সরিয়ে বিএম ইন্সটিটিউট আশ্রয় কেন্দ্রে নেওয়া হয়েছে। এরইমধ্যে জেলা শহরের ৩৫টি এলাকাকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে জেলা প্রশাসন। এসব এলাকায় সচেতনামূলক সাইন বোর্ডও দেয়া হয়েছে বলে জানান, জেলা প্রশাসক মিজানুর রহমান। জনান, রাঙামাটি শহরে ৩৩ স্থানে পাহাড়ধসের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করা হয়েছে। ওইসব ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় লোকজনকে বসবাসে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তাদেরকে নিরাপদে সরে যেতে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। এরপরও ঝুঁকিপূর্ণ বসতঘর ছেড়ে নিরাপদে সরে না গেলে আইনানুগ তাদেরকে সরাতে বাধ্যতামূলক করা হবে।

রাঙামাটি পৌর এলাকায় ২৩ আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ওইসব কেন্দ্রের স্কুল-কলেজগুলো খোলা রাখতে প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের বলে দেওয়া হয়েছে। উপজেলা পর্যায়ে নির্বাহী অফিসাররা যার যার প্রস্তুতি নিয়েছেন।

এদিকে বিভিন্ন এলাকায় ঝুঁকি নিয়ে বসবাসকারীদের নিরাপদে সরিয়ে নিতে কোন উদ্যোগ নেয়া হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। যদিও পাহাড় ধ্বসে জানমালের ক্ষয়ক্ষতিরোধে প্রস্তুতি নেয়ার কথা জানিয়েছেন রাঙ্গামাটি পৌরসভা মেয়র আকবর হোসেন চৌধুরী।

উল্লেখ্য, এ পর্যন্ত রাঙামাটি জেলায় ২০১৭ সালে ১৩ জুন পাহাড় ধ্বসে ৫ সেনা সদস্যসহ ১২০ জনের মৃত্যু হয়। ১৮ সালে নানিয়ারচরে মারাযায় ১১ জন, আর ১৯ সালে কাপ্তাইয়ে ৭জন প্রাণ হারায়।

Recommend to friends
  • gplus
  • pinterest

About the Author