করোনা মহামারির সময় বন্ধুত্ব ও মানবিক কারণে ভারতের পাশে দাঁড়াতে চিকিৎসা সামগ্রী পাঠিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। বৃহস্পতিবার (৬ মে) বিকেলে বেনাপোল বন্দর দিয়ে একটি ফ্রিজার ভ্যানে করে ১০ হাজার রেমডেসিভির ইনজেকশন পাঠানো হয় ভারতে।

কলকাতায় নিযুক্ত বাংলাদেশ উপহাইকমিশনের প্রতিনিধিরা ভারতের পেট্রাপোল বন্দর থেকে ইনজেকশনের চালান গ্রহণ করে ভারত সরকারের প্রতিনিধিদের কাছে হস্তান্তর করে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, প্রতিবেশী দেশ ভারতের ক্রান্তিকালে এমন সহায়তা যেমন মানবিক বিষয় প্রকাশ পাবে তেমনি বন্ধুত্ব সম্পর্ককে আরও জোরদার করে তুলবে।

বর্তমানে ভারতে মহামারি আকার ধারণ করেছে করোনা। প্রতিদিন সেখানে আক্রান্তের সংখ্যা ৪ লাখের কাছাকাছি। আক্রান্তদের মধ্যে প্রতিদিন মারা যাওয়ার সংখ্যা সাড়ে তিন হাজার ছাড়িয়েছে। আক্রান্ত ও মৃত্যুর মিছিল বাড়ছে। অবস্থা এতই খারাপ যে আক্রান্তের দিক দিয়ে ভারত বর্তমানে বিশ্বের দ্বিতীয় অবস্থানে, মৃত্যুর দিক থেকে আছে তৃতীয় অবস্থানে। সংকটের এ মুহূর্তে মানবিক কারণ ও বন্ধুত্বের জানান দিতে ভারতকে করোনা প্রতিরোধ চিকিৎসায় ব্যবহৃত ইনজেকশন সহায়তা দিয়েছে বাংলাদেশ।

বেনাপোল বন্দর থেকে ইনজেকশনের চালান ভারতে প্রবেশ করলে বাংলাদেশি ফ্রিজার
ভ্যান থেকে এসব চিকিৎসা সামগ্রী ভারতীয় একটি ফ্রিজার ভ্যানে আনলোড করা
হয়। কলকাতায় অবস্থিত বাংলাদেশি উপহাইকমিশনারের প্রতিনিধিরা এসব গ্রহণ করে
আনুষ্ঠানিকভাবে ভারত সরকারের প্রতিনিধির কাছে হস্তান্তর করেন। প্রথম
চালানে ৩৩৪ কার্টনে ১০ হাজার রেমডেসিভির ইনজেকশন গেল ভারতে। 

বন্দরে কাগজপত্রের আনুষ্ঠানিকতাকারী প্রতিষ্ঠান সিএ্যান্ডএফ এজেন্ট রবিউল
ইসলাম রবি জানান, ক্ষুদ্র রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ সরকার ভারতের পাশে
দাঁড়াতে যে সহায়তা করল তা দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্ব ও সৌহৃদপূর্ণ সম্পর্ক
আরও জোরদার করবে।

বেনাপোল বন্দরের সহকারী পরিচালক আতিকুল ইসলাম জানান, সরকারের সহায়তার
মেডিকেল ইনজেকশনবাহী ফ্রিজার ভ্যান বেনাপোল বন্দরে পৌঁছানো মাত্র
কাগজপত্রের আনুষ্ঠানিকতা সম্পূর্ণ করে ভারতে পাঠানো হয়।

কলকাতায় নিযুক্ত বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশনার তৌফিক হাসান জানান, এ
মহামারির সময়ে ভারতে পাশে দাঁড়াতে চিকিৎসা সরঞ্জাম উপহার হিসেবে দিয়েছে
বাংলাদেশ সরকার। পরবর্তীতে প্রয়োজন হলে সাধ্যমতো অন্যান্য সামগ্রী দিয়ে
সহায়তা করা হবে জানান তিনি।

Recommend to friends
  • gplus
  • pinterest

About the Author