লকডাউনে বিন্দুমাত্র কমেনি নদীদূষণ

বাংলাদেশের বর্তমান বাস্তবতায় দখলদার দৌরাত্ম এবং কারখানা, বর্জ্যসহ নানারকম দূষণে মরতে বসেছে বেশিরভাগ নদনদী। কলকারখানার বর্জ্য ফেলা বন্ধ না হওয়ায় টানা লকডাউনেও বিন্দুমাত্র কমেনি নদীদূষণ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দূষণের মাত্রা যেখানে বিস্তৃত এবং বহুমাত্রিক, তাই পরিকল্পনাটাও হতে হবে আধুনিক। সুদূরপ্রসারী পদক্ষেপ না নিলে একসময় হয়ত মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাবে দেশের বেশিরভাগ নদনদী।

অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখার পাশাপাশি বন্যা, খরা ও জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবেলায় নদনদীর ভূমিকা অনস্বীকার্য। নদীর ওপর নির্ভর করেই জীবিকা নির্বাহ করে দেশের একটি বিশাল জনগোষ্ঠী।

কারখানার বর্জ্য পরিশোধন না করে সরাসরি ফেলা
হয় নদীতে। এতে ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ খাদ্যচক্রে
প্রবেশ করে মানবস্বাস্থ্যের বড়ো ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

লকডাউনে নদনদী দূষণের মাত্রা হয়ত কিছটা কমবে-এমনটা ধারণা করা হলেও বাস্তবতা ভিন্ন। নদীদূষণের ক্ষেত্রটি এতোটাই বড়ো যে, দুয়েক সপ্তাহের লকডাউনে কোনো ফারাক পড়ে না। যেহেতু দূষণটা বহুমাত্রিক, তাই পরিকল্পনাটাও হতে হবে আধুনিক ও দীর্ঘমেয়াদি বলে মনে করেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভুগোল ও পরিবেশ বিভাগের চেয়ারম্যান প্রসেফসর ড. নুরুল ইসলাম নামেজ ।

প্রতিদিন প্রায় সাড়ে ৪ হাজার টন বর্জ্য ও
৫৭ লাখ গ্যালন দূষিত রাজধানীর চারপাশের নদীগুলোতে গিয়ে পড়ছে। এখনই ব্যবস্থা না
নিলে অদূর ভবিষ্যতে নদনদীর কাব্যগাথা কেবল গল্প উপন্যাসেই শোভা পাবে বলে মনে করেন
বিশেষজ্ঞরা।

Recommend to friends
  • gplus
  • pinterest

About the Author