লকডাউনে বানরের কান্না

খাবার সঙ্কটে পড়ে বিলিনের মুখে গাজীপুরের শ্রীপুরের বরমী বাজারে দুইশ বছরের ঐতিহ্য বানর। করোনা ভাইরাসের প্রভাবে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় খাবার সংকটে সহস্রাধিক বানর। অথচ একসময় মানুষের সঙ্গেই ছিল সখ্যতা। সে সুযোগে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বাসাবাড়িই ছিল খাদ্যের উৎসস্থল।

সম্প্রতি করোনাভাইরাস রোধে লকডাউনে দোকানপাট বন্ধ থাকায় চরম খাদ্য সংকটে পড়েছে প্রায় সহস্রাধিক বানর। খাবারের অভাবে অভুক্ত বানরের কান্না যেন বাড়ছেই। করোনাভাইরাস আতঙ্কে শূন্য বাজারে কাউকে এগিয়ে আসতে দেখলেই খাবারের আশায় ক্ষুধার্ত বানরগুলো নির্বাক চোখে তাকিয়ে থাকে। জানা যায় বাজার এলাকায় বানর দলবেঁধে চলাচল করে। কখনো নদীর ধারে, আবার কখনো দোকানের টিনের ছাদে এদের দেখা মেলে। বন্যপ্রাণি হলেও বন না থাকায় সামাজিক ভাবে এরা বাজারের বিভিন্ন মানুষের বাসা-বাড়ি বা দোকানের পরিত্যক্ত স্থান বা গাছে আস্তানা গড়ে তুলেছে।

গাজীপুরের শ্রীপুরের বরমী বাজারে বানরের বিলীন ঠেকাতে ২০১৭ সালে পাঁচ টন খয়রাতি সাহায্য দিয়ে খাদ্য সহায়তা দেয় জেলা প্রশাসন। সেসময় বানরের খাবারের জন্য ১০০টি কলাগাছ রোপন করা হলেও এ কার্যক্রম আলোর মুখ দেখেনি। মহামারী করোনা ভাইরাসের কারনে যেন অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে চলাফেরা ও খাদ্যের উৎসস্থল সংকুচিত হওয়াসহ নানা কারনে চরম সংকটে পড়েছে হাজার। এজন্যে নজরদারির অভাব ও আবাসস্থল সীমিত হওয়াকে দূষছেন স্থানীয়রা।

বানর গুলোর সব ধরনের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার কথা জানান উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডাক্তার রুকুনুজ্জামান। আর দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখতে সবার সহযোগিতা চাইলেন স্থানীয় বরমী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেন।

Recommend to friends
  • gplus
  • pinterest

About the Author