৩ মার্চ ১৯৭১

৩ মার্চ ১৯৭১। ঢাকার পল্টন ময়দানে অনুষ্ঠিত হয় ছাত্রলীগের বিশাল জনসভা। আগের দিন বঙ্গবন্ধুর ঘোষণা অনুযায়ী পূর্ব পাকিস্তানে শুরু হয় অসহযোগ আন্দোলন। পাকিস্তানি বাহিনীর অতর্কিত হামলায় এদিন ঢাকায় প্রাণ হারান কয়েকজন।

এই দিন ভোররাতে কারফিউ জারির সাইরেনে ভীতস্থত হয়ে পড়েছিল পুরো ঢাকা শহর। কারফিউ অমান্য করে মুক্তিকামী মানুষেরা রাস্তায় নেমে এসেছিলেন। নবাবপুর, টয়েনবী সার্কুলার রোড, ভজহরি সাহা স্ট্রিট, গ্রীন রোড, স্টেডিয়াম, কাঁঠালবাগান, কলাবাগান, নিউ মার্কেট, ও ফার্মগেটসহ-ঢাকার প্রায় সবগুলো এলাকেতেই কারফিউ ভঙ্গকারীদের ওপর গুলিবর্ষণ করা হয়েছিল। মৃত্যু হয়েছিল অনেকের। আহতদের ভর্তি করা হয় মেডিকেলে।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বন্দরে পৌঁছানোর  পথরেখা কার্যত সেদিনই স্পষ্ট রূপ পায়। বঙ্গবন্ধুর ডাকে ঢাকায় দ্বিতীয় দিনের মত এবং সমগ্র বাংলাদেশে প্রথম দিনের জন্য সর্বাত্মক হরতাল চলছিল সেদিন। শহরের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা স্তব্ধ প্রায়।

তার মধ্যেই পল্টন ময়দানে স্বাধীন বাংলা কেন্দ্রীয় ছাত্র-সংগ্রাম পরিষদের ডাকা ছাত্র জনসভায় উপস্থিত হন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। সেখানে তিনি অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেন।

সেদিনই সভা থেকে স্বাধীন বাংলা কেন্দ্রীয় ছাত্র-সংগ্রাম পরিষদের চার নেতা নূরে আলম সিদ্দিকী, শাজাহান সিরাজ, আ স ম আবদুর রব ও আবদুল কুদ্দুস মাখন স্বাধীনতা ও মুক্তিসংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ার শপথ গ্রহণ নেন।

ছাত্রলীগের তৎকালীন সভাপতি নূরে আলম সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে সেই সভায় সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক শাজাহান সিরাজ স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠ করেন। দীর্ঘ দিন শোষনে পিষ্ঠ বাঙালির সামনের তখন স্বজনের লাশ। মৃত্যু হাতের মুঠোয় নিয়ে মিছিল-মিটিংয়ে যুক্ত হতে থাকে অগণিত মানুষ। ২ মার্চ দিবাগত রাতে গুলিতে নিহত আট জনের লাশ নিয়ে বিক্ষুব্ধ জনতা মিছিল বের করে। মিছিল চলে ঢাকার বিভিন্ন রাস্তায়। মিছিল শেষে শহীদ মিনারে লাশ রাখা হয়। লাশ সামনে রেখে পূর্ব-বাংলার স্বাধিকার আদায়ের শপথ গ্রহণ করেন বিক্ষুব্ধ জনতা।

Recommend to friends
  • gplus
  • pinterest

About the Author