ট্রাম্পের অভিশংসন বিচারে সিনেটে অভিযোগ দাখিল

যুক্তরাষ্ট্রের সদ্য বিদায়ী প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় অভিশংসন বিচার শুরুর জন্য সিনেটে অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে।

স্থানীয় সময় সোমবার (২৫ জানুয়ারি) রাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদ থেকে সিনেটে আনুষ্ঠানিকভাবে এ অভিযোগ দাখিল করা হয়। এতে ট্রাম্পকে ক্যাপিটল ভবনে হামলায় উসকানি দেয়ার জন্য অভিযুক্ত করা হয়েছে।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স জানিয়েছে, আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি সিনেটে বহুল আলোচিত এই অভিশংসন বিচারের কার্যক্রম শুরু হতে পারে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। তবে ট্রাম্পকে দোষী সাব্যস্ত করতে পর্যাপ্ত ভোট পাওয়ার বিষয়ে সংশয়ের কথা জানিয়েছেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।

অভিশংসন বিচারে ট্রাম্পকে দোষী সাব্যস্ত করতে সিনেটে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রয়োজন হবে। বর্তমানে সেখানে ৫০টি আসন রিপাবলিকান এবং ৫০টি আসন ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে বিভক্ত। ফলে চূড়ান্তভাবে ট্রাম্পকে দোষী সাব্যস্ত করতে হলে ১৭ জন রিপাবলিকান সিনেটরকে তার বিরুদ্ধে রায় দিতে হবে। বাস্তবে এমনটা হওয়ার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ। তারপরও যদি শেষ পর্যন্ত ট্রাম্প দোষী সাব্যস্ত হন, তাহলে পৃথকভাবে নেওয়া সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট ট্রাম্পের আবারও কোনও সরকারি পদে অধিষ্ঠিত হওয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবে। অর্থাৎ, সেক্ষেত্রে ট্রাম্পের ভবিষ্যতে ফের যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হওয়া বা রাষ্ট্রীয় কোনও পদে যাওয়ার আর কোনও সুযোগ থাকবে না।

ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের ২৪৫ বছরের ইতিহাসে একমাত্র প্রেসিডেন্ট যাকে দুই বার অভিসংশিত করা হয়েছে। নভেম্বরের নির্বাচনের আগে জো বাইডেনের বিরুদ্ধে তদন্ত করতে ইউক্রেনের ওপর চাপ সৃষ্টি করার অভিযোগে প্রতিনিধি পরিষদ তাকে অভিযুক্ত করেছিল। কিন্তু গত ফেব্রুয়ারিতে সিনেট তাকে অব্যাহতি দেয়। তবে এবার সিনেট কী রায় দেয় সেটি জানতে আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে।

এদিকে, সম্ভাব্য ইমপিচমেন্ট থেকে বাঁচতে আলাদা দল গঠনের হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প। তার আশংকা, আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি সিনেটে ইমপিচমেন্টের ভোটাভুটিতে নিজ দল রিপাবলিকান পার্টির সদস্যরাও তার বিরুদ্ধে ভোট দিতে পারেন। তাই নতুন দল গঠনের হুমকি দিলে রিপাবলিকান সিনেটররা ভোট দেয়া থেকে বিরত থাকতে পারেন।

Recommend to friends
  • gplus
  • pinterest

About the Author