অভিযুক্ত ফারদিনের দায় স্বীকার

রাজধানীর কলাবাগানের মাস্টারমাইন্ড স্কুলের লেভেলের শিক্ষার্থী ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন অভিযুক্ত ইফতেখার ফারদিন দিহান। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মামুনুর রশিদ ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন। বিকেল ৪টার পর জবানবন্দি রেকর্ড শেষে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। এদিকে, ময়নাতদন্ত রিপোর্টে বলা হয়েছে বিকৃত যৌনাচারের কারণেই শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে।

এর আগে দুপুর ১ টা ১০ মিনিটের দিকে আসামি তানভীর ইফতেখার ফারদিন দিহানকে আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় তাকে আদালতের গারদ খানায় রাখা হয়। এরপর আসামি দিহান স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মত হওয়ায় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আসামি দিহানের ফৌজদারি কার্যবিধি ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি রেকর্ড করার আবেদন করেন। এরপর আদালত আসামি দিহানের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করেন।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে আনুশকার বাবা মো. আল-আমিন বাদী হয়ে কলাবাগান থানায় ইফতেখার ফারদিন দিহানকে একমাত্র আসামি করে মামলাটি দায়ের করেন। এরপর কলাবাগান থানার পুলিশ তাকে এ মামলায় গ্রেফতার দেখান।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, (৭ জানুয়ারি) বৃহস্পতিবার সকাল আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে ভুক্তভোগী ছাত্রীর মা কর্মস্থলের উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হয়ে যান।  এক ঘণ্টা পরে তার বাবাও ব্যবসায়িক কাজে বাসা থেকে বের হয়ে যান। দুপুর পৌনে ১২টার দিকে ওই শিক্ষার্থী তার মাকে ফোন করে কোচিং থেকে পড়ালেখার পেপার্স আনার কথা বলে বাসা থেকে বের হয়েছিলেন। এই মামলার একমাত্র আসামি ‘ও’ লেভেল পড়ুয়া ছাত্র দুপুর আনুমানিক ১টা ১৮ মিনিটে ফোন করে ওই ছাত্রীর মাকে জানান, মেয়েটি তার বাসায় গিয়েছিলেন। হঠাৎ অচেতন হয়ে পড়ায় তাকে আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেয়া হয়েছে।

অফিস থেকে বের হয়ে আনুমানিক দুপুর ১টা ৫২ মিনিটে ভুক্তভোগীর মা হাসপাতালে পৌঁছেন। হাসপাতালের কর্মচারীদের মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন, গতকাল বৃহস্পতিবার আসামি তার কলাবাগান ডলফিন গলির বাসায় ডেকে নিয়ে মেয়েটিকে ধর্ষণ করেন। প্রচুর রক্তক্ষরণের কারণে অচেতন হয়ে পড়লে বিষয়টি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য আসামি নিজেই তাকে আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতালে নিয়ে যান। খবর পেয়ে কলাবাগান থানা পুলিশের একটি দল হাসপাতালে গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায় এসব মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

সুরতহালে নিহত স্কুলছাত্রীর শরীরে অন্য কোথাও কোন আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ ঘটনা নিয়ে অতিরঞ্জিত তথ্য প্রকাশ না করারও আহ্বান জানান রমনা জোনের ডিসি।

Recommend to friends
  • gplus
  • pinterest

About the Author