বড়দিন আজ

খ্রিস্ট ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব বড়দিন আজ। দিনটিতে গির্জাগুলোতে ছিলো বড়দিনের বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন। যিশুর জন্মোৎসবে অংশ নিতে মানুষের পদচারনায় মুখর হয় গির্জা প্রাঙ্গণ। ভক্তরা ভিড় করেন পবিত্র স্থানে।

প্রার্থনা শেষে উৎসবের বর্ণিল রঙ চারিদিকে। হিংসা-বিদ্বেষকে দূরে ঠেলে সবাই মেতে ওঠে আনন্দ উদযাপনে। বড়দিন উপলক্ষে বরাবরের মতোই নানা আয়োজন রয়েছে তারকা হোটেলগুলোতে। তবে, করোনা পরিস্থিতিতে এবার উপস্থিতি ছিলো কম। মহিমা, আরাধনায় স্মরণ করা হয় যিশুকে। পাপ ও গ্লানি দূরে সরিয়ে প্রাণ ও প্রকৃতি যেন পূর্ণহয় ভালোবাসা, সহযোগিতা এবং মানবিকতায়, সেই প্রার্থনাই ভক্তদের।

পৃথিবী যখন কলূষিত, হানাহানিতে জর্জরিত ঠিক তখন পৃথিবীতে আগমন ঈশ্বরপুত্র যিশুখ্রিস্টের। দু’হাজার বছরের বেশি সময় আগে জেরুজালেমের বেথলেহেম নগরীর এক গোয়াল ঘরে মানব হয়ে জন্ম নেন যিশুখ্রিস্ট। পাপ থেকে মানুষকে মুক্ত করতেই পৃথিবীতে আগমন তার।

যিশুর জন্মের অনেক বছর পর থেকে এ দিনকে আনন্দ ও মুক্তির দিন হিসেবে উদযাপন করতে শুরু করে খ্রিস্টানরা। ৪৪০ সালে পোপ এদিবসকে স্বীকৃতি দেন। তবে উৎসবটি জনপ্রিয়তা পায় মধ্যযুগে। সেসময় এর নাম হয় ‘ক্রিসমাস ডে’। বিশ্বের অধিকাংশ দেশেই ক্রিসমাস দিবসে সরকারি ছুটির দিন।

এবারের বড়দিনের আয়োজন নিয়ে বলতে গিয়ে বাংলাদেশ খ্রিস্টান অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট নির্মল রোজারিও বলেন, করোনার কারণে এবার আমরা সীমিত পরিসরে বড়দিন উদযাপন করলেও স্পিরিচ্যুয়ালি আমরা আগের মতোই আছি। এ বড়দিনে আমাদের প্রার্থনা থাকবে, আমরা যেন করোনা মহামারি থেকে মুক্তি পাই।

যিশুর দেখানো আলোর পথের মধ্য দিয়ে গড়ে উঠবে শান্তিময় বিশ্ব, সেই প্রত্যাশা খ্রিস্টভক্তদের। বড়দিন উপলক্ষে শুক্রবার সরকারি ছুটি। সরকারি-বেসরকারি রেডিও, টেলিভিশন ও সংবাদপত্রগুলো বিশেষ অনুষ্ঠান ও প্রকাশনার মাধ্যমে দিনটির তাৎপর্য তুলে ধরছে। দেশের সব গির্জাসহ খ্রিস্টান পরিবারগুলো ক্রিসমাস ট্রি সাজিয়ে, কেক তৈরি করে ও মোমবাতি জ্বালিয়ে দিনটি উদযাপন করবে। এরই মধ্যে দেশের সব গির্জায় বর্ণিল আলোকসজ্জা করা হয়েছে।

দিনটি উপলক্ষে বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বাণীতে তারা খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের সবাইকে শুভেচ্ছা জানিয়ে সুখী-সমৃদ্ধ ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গঠনে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন। এ ছাড়া খ্রিস্টান সম্প্রদায়সহ দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে পৃথক বাণী দিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

Recommend to friends
  • gplus
  • pinterest

About the Author