৩ ডিসেম্বর’ ১৯৭১

দিন যতই যেতে থাকে মুক্তিযোদ্ধারা ততোই দুর্দমনীয় হয়ে উঠতে থাকেন। বিভিন্ন রণাঙ্গণে পরাজিত হতে থাকে পাকিস্তানি বাহিনী। কোনো কোনো এলাকায় পাকিস্তানি সেনারা বিনাযুদ্ধেই আত্মসমর্পন করতে শুরু করে। মুক্ত হয় গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া, বরগুনা ও ঠাকুরগাঁও। রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে পাক হানাদার বাহিনীকে পরাজিত করে, এই তিন জনপদে ওড়ে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা।

একাত্তরের এদিনেই পাকিস্তানি বাহিনী ভারতের কয়েকটি শহরে বিমান হামলা চালায়।মুক্তিযোদ্ধাদের সাঁড়াশি আক্রমনে দিশেহারা হয়ে পড়ে পাকিস্তানি বাহিনী। একে একে বিভিন্ন এলাকায় পরাজয়ের খবর পেতে থাকে সেন্ট্রাল কমান্ড।

একাত্তরের এইদিনে কলকাতায় অবস্থান করছিলেন ভারতের
প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী। সেসময় ভারতের কয়েকটি শহরে আকস্মিক বিমান হামলা
চালায় পাকিস্তানি বাহিনী।  ইন্দিরা গান্ধী
দিল্লিতে গিয়েই জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া ভাষণে পাকিস্তানি হামলার নিন্দা জানিয়ে
দেশবাসীকে যুদ্ধে নামার আহ্বান জানান।

এদিন মেজর জাফর ইমামের নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধারা নোয়াখালীর মাইজদী এলাকা দখলে নেন। তুমুল যুদ্ধের পর কুমিল্লার মিয়াবাজার এবং নোয়াখালীর সোনাইমুড়ি, চৌমুহনী দখলে আসে মুক্তিযোদ্ধাদের। সিলেটের ভানুগাছায় পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সঙ্গে সম্মুখযুদ্ধে ১৭ মুক্তিসেনা শহীদ হন। গাইবান্ধার পলাশবাড়িতে পাকিস্তানি সেনা আত্মসমর্পণ করে। পাকিস্তানি সরকার এয়ারলাইন্সের সব ফ্লাইট বাতিলের পাশাপাশি সান্ধ্য আইন জারি করে।

এদিন ভারতীয় সময় বিকাল ৫ টা ৪৭ মিনিটে পাকিস্তানি বিমানবাহিনী অতর্কিতে ভারতের অমৃতসর, পাঠানকোট, শ্রীনগর, যোধপুর ও আগ্রাসহ ৭টি ঘাঁটিতে একযোগে হামলা চালায়। রাত সাড়ে আটটায় জম্মু ও কাশ্মীরে দক্ষিণ-পশ্চিম ছাম্ব এবং পুঞ্চ সেক্টরে ব্যাপক আক্রমণ অভিযান শুরু করে। পাকিস্তানি সামরিকবাহিনী আকস্মিকভাবে স্থল ও আকাশ পথে ভারতের পশ্চিমাঞ্চল আক্রমণ করার ফলে সর্বাত্মক যুদ্ধ শুরু হয়।

ভারতের কৈলশহর বিমানঘাঁটি থেকে মধ্যরাতে অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে বাংলার আকাশসীমায় প্রবেশ করে সফল অভিযান পরিচালনা করেন “কিলোফ্লাইট”-এর সদস্যরা। এদিন রাত দুটোয় ৩০০ ফুট উচ্চতায় উড়ে ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট শামসুল আলম ও ক্যাপ্টেন আকরামের নেতৃত্বে একটি Otter প্লেন থেকে রকেট ছুঁড়ে চট্টগ্রাম তেল ডিপো ধ্বংস করে দেয়। একই সময়ে নারায়নগঞ্জের গোদনাইল তেলের ডিপোতে সফল আঘাত হানে স্কোয়াড্রন লিডার সুলতান মাহমুদ ও ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট বদরুল আলমের নেতৃত্বে একটি Alluette 3 হেলিকপ্টার।

পাকিস্তানের ৩১১ ফুট দীর্ঘ ২৮টি এমকে ১৪ টর্পেডো বহনে সক্ষম সর্বশ্রেষ্ঠ সাবমেরিন পিএনএস গাজী কমান্ডার জাফর মুহাম্মদ অধীনে ১০ জন কর্মকর্তা এবং ৮২ জন নাবিক নিয়ে নভেম্বরের মাঝামাঝি আরব সাগরের ভারতীয় অংশ দিয়ে গোপনে ৩,০০০ মাইল (৪,৮০০ কিমি) পথ পাড়ি দিয়ে বঙ্গোপসাগরে পৌঁছায়। গাজীর এই অভিযানের প্রধান লক্ষ্য ছিল, বিশাখাপত্তম বন্দরে মোতায়েন ভারতীয় বিমানবাহী রণতরী বিক্রান্তকে ধ্বংস করা এবং প্রথম লক্ষ্য সফল হলে ভারতের পূর্ব উপকূলে মাইন পেতে রেখে আসা। এদিন শুক্রবার সেই লক্ষ্য সাধনে বিশাখাপত্তমের কাছাকাছি পৌঁছে যায়।

Recommend to friends
  • gplus
  • pinterest

About the Author