আদিতমারীতে ইউএনও-উপজেলা চেয়ারম্যানের দ্বন্দ

লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা চেয়ারম্যানের দ্বন্দ প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে। এতে  বেড়িয়ে আসছে বিভিন্ন দপ্তরের অনিয়মের তথ্য। নিরাপত্ত্তা চেয়ে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে থানায় দু’টি সাধারণ ডায়েরিও করেছেন ইউএনও। আর উৎকোচ আদায় ও ভূয়া প্রকল্প দেখিয়ে সরকারী অর্থ আত্মসাৎসহ নানা অভিযোগের পাহাড় ইউএনওর বিরুদ্ধে। তবে সব অভিযোগ খতিয়ে দেখছে জেলা প্রশাসন।

অভিযোগে জানা গেছে, দুস্থ মহিলাদের সহায়তার জন্য মহিলা বিষয় অধিদপ্তরের আওতায় ভিজিডি প্রকল্প চালু করে সরকার। সম্প্রতি সেই প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের তালিকা প্রস্তুতের কাজ শুরু হয়। নিয়মানুযায়ী অনলাইনে আবেদনগুলোর যাচাই-বাছাই করে ইউনিয়ন পরিষদ চূড়ান্ত করে উপজেলা কমিটিকে জমা দেবে। উপজেলা কমিটি তা চূড়ান্ত করে। কিন্তু এই প্রকল্পের টাকায় ভাগ দাবি করেন উপজেলা চেয়ারম্যান ফারুক ইমরুল কায়েস।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা জানান, শুরু থেকে ইউএনও এবং চেয়ারম্যানের দ্বন্দ্ব চলে আসছে। চেয়ারম্যান প্রায় সময় কর্মকর্তাদের দোতলা ভবন থেকে ফেলে দেয়ার হুমকিসহ অকথ্য ভাষায় গালি দেন। মাসিক সভায় ভিজিডি’র ভাগ পাওয়ার দাবি করে ইউএনওকে গালি দিয়ে সভা থেকে বেরিয়ে যান চেয়ারম্যান। পরে বারান্দায় আবারো অশ্রাব্য আচরণ করেন চেয়ারম্যান। ইউএনওকে উপজেলা চেয়ারম্যান বলেন, ‘এটা তোর বাবার উপজেলা? তোকে নরসিংদীর লোক নরসিংদীতে পাঠায়ে দিবো’ বলে হুমকি দেন। আদিতমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে ফোর্স নিয়ে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেছি। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে উপজেলা পরিষদ চত্বরে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুহাম্মদ মনসুর উদ্দিন বলেন, বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসকসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে। তার অনিয়মের বিরোধিতা করায় প্রায় সময় কর্মকর্তাদের সঙ্গে অসৌজন্য আচরণ করেন চেয়ারম্যান। যা নিয়ে সবাই ক্ষিপ্ত। উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফারুক ইমরুল কায়েস বলেন, কোনো ধরনের মিটিং ছাড়াই ইউএনও একক সিদ্ধান্তে কাজ করছেন। আশ্রয়ণ প্রকল্প ২ এবং এডিপি’র কাজ নিজেই করছেন ইউএনও। তার নানান অনিয়মের প্রতিবাদ করায় আমার ওপর অফিসারদের ক্ষেপিয়ে অফিস ছেড়ে ডিসি অফিসে গেছেন ইউএনও। কর্তৃপক্ষ তদন্ত করুক। তদন্ত করলে সত্যতা বেরিয়ে আসবে।

লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক আবু জাফর জানান, ইউএনওসহ অফিসারদের কথা শুনে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে জানতে উপজেলা চেয়ারম্যানকে অফিসে ডাকা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

Recommend to friends
  • gplus
  • pinterest

About the Author