রায়হান হত্যায় কনস্টেবল হারুন গ্রেফতার

সিলেটে রায়হান নিহতের ঘটনায় সাময়িক বরখাস্ত বন্দর বাজার ফাঁড়ির কনস্টেবল হারুনুর রশিদকে গ্রেফতার করেছে পিবিআই।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুরে পিবিআই-এর পুলিশ সুপার খালেদুজ্জামান জানান, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করে আজই তাকে আদালতে পাঠানো হবে। হারুনুর রশিদসহ এ মামলায় এখন পর্যন্ত দুই জনকে গ্রেফতার করা হলো।

গ্রেফতার হারুনুর রশিদ বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে কনস্টেবল হিসেবে
দায়িত্বরত ছিলেন। ফাঁড়িতে নির্যাতনে রায়হানের মৃত্যুর ঘটনায় গত ১৩ অক্টোবর
তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

এসপি মুহাম্মদ খালেদ-উজ-জামান জানান, হারুনুর রশিদকে গতকাল রাতে সিলেট
পুলিশ লাইন্স থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আজ তাকে আদালতে তুলে রিমান্ড চাওয়া
হবে।

এ নিয়ে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত দুজনকে গ্রেফতার করলো পিবিআই। এর আগে কনস্টেবল টিটু চন্দ্রকে গ্রেফতার করা হয়।

এ ঘটনায় ১২ অক্টোবর রাতে অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে পুলিশি হেফাজতে মৃত্যু আইনে কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা করেন রায়হানের স্ত্রী তাহমিনা আক্তার তান্নি। মামলাটি পুলিশ সদর দফতরের নির্দেশে পিবিআইতে স্থানান্তর করা হয়। তদন্তভার পাওয়ার পর পিবিআইয়ের টিম ঘটনাস্থল বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ি, নগরের কাষ্টঘর, নিহতের বাড়ি পরিদর্শন করে। সর্বোপরি মরদেহ কবর থেকে তোলার পর পুনরায় ময়নাতদন্ত করা হয়।

নিহত রায়হানের মরদেহে ১১১ আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে। এসব আঘাতের ৯৭টি ফোলা আঘাত ও ১৪টি ছিল গুরুতর জখমের চিহ্ন। এসব আঘাতগুলো লাঠি দ্বারাই করা হয়েছে। অসংখ্য আঘাতের কারণে হাইপোভলিউমিক শক ও নিউরোজেনিক শকে মস্তিষ্ক, হৃৎপিণ্ড, ফুসফুস, কিডনিসহ গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলো কর্মক্ষমতা হারানোর কারণে রায়হানের মৃত্যু হয়েছে।

এ ঘটনায় গত ২০ অক্টোবর দুপুরে বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে নির্যাতনে রায়হান আহমদ হত্যা মামলায় ওই ফাঁড়ির পুলিশ কনস্টেবল টিটু চন্দ্র দাসকে গ্রেফতারের পর পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। টিটু বন্দরবাজার ফাঁড়িতে কর্মরত ছিলেন।

রায়হানের মৃত্যুর জন্য দায়িত্বহীনতার দায়ে বন্দরবাজার ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) আকবর হোসেন ভূইয়া, পুলিশ সদস্য টিটুসহ চারজনকে সাময়িক বরখাস্ত ও তিনজনকে প্রত্যাহার করে তাদের পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়।

এছাড়াও গত ২১ অক্টোবর এ ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (সাময়িক বরখাস্ত) উপপরিদর্শক (এসআই) আকবর হোসেন ভূঁইয়াকে ফাঁড়ি থেকে পালাতে সহায়তা করা ও তথ্য গোপনের অপরাধে বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির টু আইসি এসআই হাসান উদ্দিনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

গত ১১ অক্টোবর বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে নির্যাতন করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকাল ৭টা ৫০ মিনিটে রায়হানের মৃত্যু হয়। রায়হান সিলেট নগরের আখালিয়ার নেহারিপাড়ার বিডিআরের হাবিলদার মৃত রফিকুল ইসলামের ছেলে। তিনি নগরের রিকাবিবাজার স্টেডিয়াম মার্কেটে এক চিকিৎসকের চেম্বারে চাকরি করতেন।

রায়হান হত্যার ঘটনায় ১২ অক্টোবর এস আই আকবর ও কনস্টেবল হারুনুর রশিদসহ ৪ জনকে সাময়িক বরখাস্ত ও ৩ জনকে প্রত্যাহার করা হয়। এর মধ্যে পালিয়ে যায় আকবর।

Recommend to friends
  • gplus
  • pinterest

About the Author