বর্তমান সরকার ও ইসির অধীনে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না

বর্তমান সরকার ও ইসির অধীনে কোনদিন নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না বলে মনে করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সরকার নির্বাচন ব্যবস্থাকে তামাশায় পরিণত করেছে বলে অভিযোগও করেন তিনি। বলেন, বর্তমান নির্বাচন কমিশনকে একটি নির্লজ্জ কমিশন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে, ঢাকা ৫ ও নওগাঁ-৬ আসনের উপনির্বাচন বাতিল ও পুননির্বাচনের দাবিতে মানববন্ধন আয়োজন করে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি। সরকারকে পদত্যাগে বাধ্য করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবানও জানান তিনি।

পাবনা-৪, ঢাকা-৫ ও নওগাঁ-৬ আসনের উপনির্বাচনে ভোট কারচুপির অভিযোগ এনে পুনরায় নির্বাচনের দাবিতে মহানগর ও জেলাপর্যায়ে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচির অংশ হিসেবে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে কর্মসূচি পালন করে বিএনপি। সেখানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির মহাসচিব বলেন, দেশে মহামারি আকার ধারণ করেছে গুম, খুন, ধর্ষণ, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, দুর্নীতি ও লুটপাট।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আমি আজ স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই পদত্যাগ করুন, অতীতের সব নির্বাচন বাতিল করে একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে এবং একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের পরিচালনায় নির্বাচনের ব্যবস্থা করুন। এটাই একমাত্র সমাধান। কোভিড বলেন আর যাই বলেন, নির্বাচিত সরকার ছাড়া কোনো সমস্যারই সমাধান হবে না।’

বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘আজকে আমাদের দুর্ভাগ্য, এখন যে নির্বাচন কমিশন আছে, সেটা একটা ঠুঁটো জগন্নাথ, লজ্জা-শরম বলতে কিছু নাই। ঢাকা শহরের পাশে ১০ ভাগ ভোটও না, আমরা মনে করি পাঁচ ভাগও পড়েনি। বলছে, সন্তষ্ট হয়েছে। একটা মানুষের লজ্জা-শরম-হায়া থাকে, এদের তাও নাই। তারা বলে নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে।

‘নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতেই বিএনপি নির্বাচনে গেছে’ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের এমন বক্তব্যের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘কথাটা তো মিথ্যা বলেননি। নির্বাচন তো প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে গেছে ২০১৪ সাল থেকেই। আপনারা ক্ষমতায় আসার পর সুপরিকল্পিতভাবে দেশের মানুষ যাতে পছন্দের মানুষকে ভোট দিতে না পারে, সে ব্যবস্থা করেছেন। ১৫৪ জনকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করে ক্ষমতায় গেছেন। রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করেছেন, পুলিশকে ব্যবহার করেছেন। মিডিয়াকে ব্যবহার করেছেন।’

বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘এই সরকারের অধীনে দেশ নিরাপদ নয়, দেশের মানুষ নিরাপদ নয়, তার প্রমাণ মা-বোনেরা এখন নিরাপদে চলাফেরা করতে পারে না। বিনা বিচারে হত্যা, এখানে তাদের মতের সঙ্গে যারা একমত নয়, তাদের গুম করে নেয় অথবা হত্যা করা হয়। যে পুলিশ মানুষের নিরাপত্তা দেবে, সেই পুলিশ কক্সবাজারে সাবেক সেনা কর্মকর্তাকে হত্যা করেছে। সেখানে ওসি প্রদীপের নেতৃত্বে ৩৩ জনকে হত্যা করা হয়েছে। মানুষ কোথায় যাবে? যাদের দায়িত্ব জনগণের নিরাপত্তা দেওয়া, তাদের দ্বারাই হত্যাকাণ্ড হচ্ছে।’

যুব-তরুণ ছাত্র সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আসুন, আমরা শপথ গ্রহণ করি। এ দেশের জনগণের অধিকার ভোটের অধিকার, স্বাধীনতার অধিকার ফিরিয়ে আনতে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন করতে হবে। আজকে কেউ কথা বলতে পারবে না, কেউ লিখতে পারবে না।

সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে কিছু বলতে পারবে না। এর চেয়ে বড় নির্যাতন-নিপীড়ন ও স্বাধীনতাহরণ আর কী থাকতে পারে। এরা এখন সম্পূর্ণভাবে একটি কর্তৃত্ববাদী সরকারে পরিণত হয়েছে। একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছে। ভিন্নকথা বললেই মামলা। বাড়ির মহিলারাও বাদ যায় না, তাদেরও মামলার শিকার হতে হয়। আমি দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে আহ্বান জানাই, আসুন আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই ফ্যাসিস্ট একদলীয় সরকারকে সরিয়ে একটা জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করি।’

Recommend to friends
  • gplus
  • pinterest

About the Author