পানির মাধ্যমেও ছড়ায় করোনা ভাইরাস

মহামারী করোনা ভাইরাস অতি সহজে ছড়িয়ে পড়ে মানুষের শরীরে। তাই হ্যান্ডশেক করতে না করা হচ্ছে। মাস্ক পরতে বলা হচ্ছে সবাইকে। কারণ অন্যের হাঁচি-কাশির ড্রপলেটস যেন নিশ্বাসে না মেশে। বাতাসেও ছড়ায় করোনা। তাই বলা হচ্ছে, একে অন্যের থেকে সামাজিক দূরত্ব বাড়ান।

এবার জানা গেল, প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস পানির মাধ্যমেও ছড়াতে পারে। সম্প্রতি ‘নেচার’ পত্রিকায় প্রকাশিত একটি রিপোর্টে তেমনটাই জানানো হয়েছে। ব্যবহারের সময় সতর্ক না হলে পানির মাধ্যমেও করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ হতে পারে বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। করোনা গোত্রের সব ভাইরাস ২৩ থেকে ২৫ ডিগ্রি সেন্ট্রিগ্রেড তাপমাত্রায় পানিতে ১০ দিন পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে বলেও জানান তারা।

নেদারল্যান্ডসের কেডব্লুআর ওয়াটার রিসার্চ ইন্সটিটিউটের পক্ষ থেকে এক গবেষক লিখেছেন, সুইডেন, নেদারল্যান্ডস এবং আমেরিকার মতো দেশে যেখানে প্রায় দশ লক্ষের কাছাকাছি মানুষের বাস, সেই এলাকার পানির স্যাম্পল ফাইল করে গবেষণা চালানো হয়। প্রতিদিনের হাতমুখ ধোয়ার পর ব্যবহৃত পানি, শৌচকাজের পানিতে কভিড-১৯ সংক্রমণের ভয় রয়েছে। 

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতো আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোও বলছে, করোনা ভাইরাস বাতাসবাহিত হতে পারে। তাই ছ’ফুট নয়, দরকার ১৩ ফুটের দূরত্ব। কারণ হাঁচির সঙ্গে বের হওয়া ড্রপলেটস বাতাসে ভেসে থাকে বেশ কিছুক্ষণ এবং তারপর মাটিতে পড়ে। ভাইরাস জুতার সঙ্গে ঘরে ঘরে পৌঁছচ্ছে। তাতেই যা ক্ষতি করার করে দিচ্ছে করোনা। এতটাই শক্তি এই করোনার। এমন একটা সময় করোনা ‘পানিবাহিত’ বললে চিন্তাই বাড়ে। 

ই-লাইফের সাম্প্রতিক গবেষণায় জানা গেছে, কভিড পজিটিভ ব্যক্তির এক গ্রাম মলে রয়েছে কভিডের ১০০ মিলিয়ন আরএনএ। সংখ্যাটা কিন্তু কোনো অংশে কম নয়। ড্রেনের পানিতে মিশে থাকা সংক্রমিত রোগীর মল যে কতো জনকে সংক্রমিত করতে পারে, তা কেউ জানেন না। এই ক্ষেত্রে আরো গবেষণার দরকার। শুভজিৎ আরো জানান, জ্বর-সর্দি-গলাব্যথা সঙ্গে পেটখারাপও কিন্তু একটা বড় লক্ষণ কভিড সংক্রমণের। 

পরিবেশ দূষণের কারণে দিনদিন
বিশুদ্ধ পানির সরবরাহ কমে যাচ্ছে। বাসাবাড়ির আবর্জনার পাশাপাশি ট্যানারি ও শিল্প
কারখানার দূষিত বর্জ্য সরাসরি মিশছে নদনদী-জলাশয়ে। এসবের সঙ্গে নতুন করে
যুক্ত হয়েছে স্বাস্থ্য সুরক্ষা উপকরণ বর্জ্য। সব মিলিয়ে পানির মাধ্যমে করোনা সংক্রমণের
ঝুঁকি বেড়ে যাচ্ছে।

এছাড়াও, পানিতে প্রায়
সবসময়ই নানারকম ভাইরাস ব্যাকটেরিয়ার অস্তিত্ব খুজে যাওয়া যায়। তাই পানিপানের সময়
সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে।

ব্যবহারের পর মাস্কসহ অন্যান্য
উচ্ছিষ্ট ফেলার কারণে পানি দূষিত হতে পারে। এ পানি নাক বা মুখ দিয়ে শরীরে প্রবেশ
করলে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে।

কেবল করোনা নয়, ক্ষতিকারক ভাইরাস থেকে বাঁচতে নদনদী-জলাধারে বর্জ্য না ফেলার পরামর্শ দিয়েছেন গবেষকরা।

Recommend to friends
  • gplus
  • pinterest

About the Author