ইসরায়েল-আমিরাত-বাহরাইন চুক্তি সই

ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনে ঐতিহাসিক চুক্তিতে সই করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইন। মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় রাত ১০টার দিকে হোয়াইট হাউসে এ চুক্তি সই হয়। একে নতুন মধ্যপ্রাচ্যের সূর্যোদয় হিসেবে অভিহিত করেন মার্কিন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প। ১৯৭৯ সালে মিসর এবং ১৯৯৪ সালে জর্ডানের পর তৃতীয় ও চতুর্থ আরব দেশ হিসেবে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার অঙ্গীকারাবদ্ধ হলো আরব আমিরাত ও বাহরাইন।

স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্রের দাবিতে ফিলিস্তিনি জনগণের কয়েক দশকের সংগ্রামকে পাশ কাটিয়েই এ চুক্তি করা হয়েছে।যদিও এ চুক্তি নিয়ে ফিলিস্তিন ও বিভিন্ন মুসলিম দেশ দেশ দু’টির ব্যাপক সমালোচনা করেছে। আবার মিসর, ওমান ও জর্ডান সহ অনেক দেশ স্বাগতও জানিয়েছে। আবার মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের বিরুদ্ধে এ চুক্তির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর কৌশলগত সখ্যতার বিষয়টিও আরও স্পষ্ট হবে মনে করা হচ্ছে। এছাড়া ইসরায়েলও মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক নিরাপত্তাহীনতা সম্পর্কে চিন্তামুক্ত থাকতে পারবে।

মঙ্গলবারের (১৫ সেপ্টেম্বর) এ অনুষ্ঠানে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, আমিরাতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ আবদুল্লাহ বিন জায়েদ আল-নাহিয়ান ও বাহরাইনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুল লতিফ আল জায়ানি নিজ নিজ দেশের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। তিন দেশই চুক্তিটিকে ‘ঐতিহাসিক’ আখ্যা দিয়েছে। এই চুক্তির মাধ্যমে তৃতীয় ও চতুর্থ আরব দেশ হিসেবে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইন ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনে অঙ্গীকারাবদ্ধ হবে। এর আগে ১৯৭৯ সালে মিশর এবং ১৯৯৪ সালে জর্ডান ইসরায়েলের সঙ্গে শান্তি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছিল।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ফিলিস্তিনিদের বিরোধিতা ও তীব্র প্রতিবাদের মুখেও মাত্র কয়েকদিনের ব্যবধানে দুটি আরব দেশের ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের ঘোষণা ট্রাম্পের অভাবনীয় কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হবে। ট্রাম্প এই চুক্তির প্রশংসায় বলেছেন, “কয়েক দশকের বিভক্তি এবং সংঘাতের পর আমরা নতুন মধ্যপ্রাচ্যের যাত্রা শুরু করলাম। আমরা আজ ইতিহাসের পথপরিক্রমা বদলে দিতে এখানে সমবেত হয়েছি।”

ইসরায়েলের সঙ্গে আমিরাত ও বাহরাইনের ‘শান্তি চুক্তি’৩ নভেম্বর হতে যাওয়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ইসরায়েলপন্থি অ্যাভেঞ্জেলিকাল খ্রিস্টানদের ভোট টানতেও বড় ধরনের ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে। রিপাবলিকান ঘাঁটিগুলোতে জয় নিশ্চিত করতে এ ভোটারদের সমর্থন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। 

সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনের জন্যও এ চুক্তির গুরুত্ব অপরিসীম। ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের ভেতর দিয়ে দেশদুটি মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের ক্রমবর্ধমান প্রভাব বিস্তার এবং তেহরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের বিকাশ নিয়ে তাদের যৌথ উদ্বেগের বহিঃপ্রকাশ ঘটাল বলেও ধারণা অনেকের। আর উদ্বেগের কারণেই আরব আমিরাত এবং বাহরাইন ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করল বলে ধারণা বিশ্লেষকদের। 

Recommend to friends
  • gplus
  • pinterest

About the Author