নাটোরে বাবা-মাকে বাড়ি থেকে বের করে দিল ছেলেরা

নাটোরের গুরুদাসপুরের উত্তর নাড়ী বাড়ী গ্রামের ৮৫ বছর বয়সের বৃদ্ধ জমির উদ্দিন ও তার স্ত্রী ৭০ বছর বয়সের রশিদা বেগম। তিন ছেলে ও ছেলেও বৌসহ নাতী নাতনি নিয়ে তিন শতক জমির উপর বাড়ি করে বসবাস করছিলেন। কিছু দিন আগে কৌশলে জমিটি লিখে নেয় ছেলেরা। পরে সেখানে ফাকা বাড়ী নির্মান করে। বাড়ী নির্মানের পর বৃদ্ধা বাবা মাকে বাড়ী থেকে বের করে দেয়া হয়।

পরে তারা স্থানীয় একটি স্কুলের বারান্দায় সাময়িক আশ্রয় নেয়। পরবর্তীতে স্কুলের প্রধান শিক্ষক মিটিং করতে এসে ওই দৃশ্য দেখে তাদেরকে একটা কক্ষ খুল দেন। ভুক্তোভোগী বৃদ্ধা জানালেন, তার ছেলের বৌ তাদের পছন্দ করেনা। তাই বের করে দিয়েছে। বৃদ্ধ দম্পতির মেয়ে জানালেন, মা-বাবাকে কেউ দেখাশোনা করেনা। আর স্বজনদের অভিযোগ এর আগেও তাদের বাড়ী থেকে বের করে দেয়া হয়।

বৃদ্ধা স্ত্রী রাশেদা বেগম জানান, স্বামী প্যারালাইসিসের রোগী। তার
চিকিৎসার জন্য জমিজমা শেষ। মাত্র তিন শতক জায়গা ছিল তাদের নামে, ভরণপোষণের
আশ্বাস দিয়ে ওই সম্পত্তি লিখে নেন তাঁর তিন ছেলে জালাল (৪৫), আলাল (৪২) ও
রসুল (৩৮)। কিছুদিন পর তাদের ভরণপোষণ বন্ধ করে দেয় ছেলেরা।

বৃদ্ধা রাশেদা আরো জানান, রবিবার ছোট ছেলে মোফাজ্জলের কাছে খাবার চান
তিনি। তখন তার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করতে থাকে মোফাজ্জল। এক পর্যায়ে বৃদ্ধা
মাকে বাড়ি মেরামতের অজুহাতে বাসা থেকে তাড়িয়ে দেয়।

গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মো. মোজাহারুল ইসলাম বলেন, সংবাদ পেয়ে অন্ধকার কক্ষ থেকে বৃদ্ধ মা-বাবাকে উদ্ধার করে নিরাপদ আশ্রয়ে নেওয়া হয়েছে। তাদের মাঝে ১০ কেজি চাল, ১ কেজি ডাল, তেল, আলুসহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র দেওয়া হয়েছে। তাদের ছেলেদের জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য থানায় আনা হয়েছে। বৃদ্ধ দম্পতিদের নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ সময় স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর মজিবর রহমান জানালেন, বয়স্ক ভাতা কার্ডের ব্যবস্থা করা হবে।

সব অভিযোগ অস্বীকার করেন ছোট ছেলে। তবে অনুসূচনা করলেন ছেলের বৌ। আর মা-বাবাকে ভালো ভাবেই দেখবালের
অঙ্গিকার করলেন বড় ছেলে।

Recommend to friends
  • gplus
  • pinterest

About the Author