সিনহা হত্যায় তদন্ত প্রতিবেদন জমা

টেকনাফে মেরিন ড্রাইভ সড়কের শামলাপুর চেকপোস্ট পুলিশের গুলিতে নিহত অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে এ সংক্রান্ত তদন্ত কমিটি।

ঘটনার পর ৩৭ তম দিনে সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের কাছে এই প্রতিবেদন জমা দেন তদন্ত কমিটির প্রধান চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (উন্নয়ন) ও যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ মিজানুর রহমান। এসময় তাদের সঙ্গে ছিলেন কমিটির সদস্য বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর লে. কর্নেল এস এম সাজ্জাদ হোসেন।

প্রতিবেদন হাতে পেয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান জানান, এটি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে, মামলাটি তদন্তাধীন থাকায় এখনই এ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে না। আদালত চাইলে প্রতিবেদনটি সেখানে দাখিল করা হবে বলেও জানান তিনি। বলেন, এ নিয়ে সেনাবাহিনী ও পুলিশের মধ্যে কোন ভুল বোঝাবুঝি নেই এবং ঘটনার পুনরাবৃত্তি এড়াতে সবাই সজাগ আছে।

৮০ পৃষ্ঠার মূল প্রতিবেদনে ১৩টি সুপারিশ রয়েছে। এরসঙ্গে ২১ পৃষ্ঠার ছবি ও ৫৮৬ পৃষ্ঠার সংযুক্ত রয়েছে। ৬৮ জনের সাক্ষ্য নিয়ে ঘটনার কারণ ও দোষীদের চিহ্নিত করার চেষ্টা করেছে কমিটি।

এদিকে, তদন্ত কমিটির প্রধান চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মিজানুর রহমান জানান, সাক্ষ্য গ্রহণ, ঘটনাস্থল পরিদর্শনসহ নানাভাবে সিনহা হত্যার কারণ ও দোষীদের চিহ্নিত করার চেষ্টা করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমাদেরকে ঘটনার উৎস, কারণ ও প্রতিকার বিষয়ে সুপারিশ করতে বলা হয়েছিল। আমরা পুরো ঘটনা বিশ্লেষণ করে এই প্রতিবেদন জমা দিয়েছি।’

উল্লেখ্য, গত ৩১ জুলাই রাতে কক্সবাজার টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর চেকপোস্টে পুলিশ পরিদর্শক লিয়াকত আলীর গুলিতে নিহত হন অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান। হত্যার কারণ উদঘাটনে গত ২ আগস্ট একটি চার সদস্যের কমিটি গঠন করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

পরে সাত কর্মদিবসের মধ্যে অর্থাৎ ১০ আগস্টের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা থাকলেও সময় বাড়ানো হয় ২৩ আগস্ট পর্যন্ত। পরে তৃতীয় ধাপে কমিটির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সময় বাড়ানো হয়। পরে আবার ৭ সেপ্টেম্বর সময় বাড়ানো হয়।

Recommend to friends
  • gplus
  • pinterest

About the Author