ঢাকা শিশু হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা ব্যাহত

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত ঢাকা শিশু হাসপাতালে নানা সমস্যায় ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসাসেবা। নানা অনিয়ম ও অভিযোগ মাথায় নিয়েই চলছে ঢাকা শিশু হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা। স্বাস্থ্যবিধি যেমন উপেক্ষিত তেমনিভাবে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থেকেও কাংক্ষিত সেবা না পাওয়ায় হতাশা জানিয়েছেন রোগী ও স্বজনরা। শিশুদের জন্য করোনা বিশেষায়িত হলেও, হাসপাতালের স্টাফদের স্বজনরা নমুনা পরীক্ষা করছে এমন অভিযোগও আছে। হাসপাতালের বাইরের প্রবেশপথে চার দিকে ময়লা আবর্জনা ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। সামনে সড়কের পাশের ড্রেনে পচা ময়লা আবর্জনা জমে দুর্গন্ধ সৃষ্টি হওয়ায় নাকে রুমাল চেপে হাসপাতালে প্রবেশ করতে হয়। এর ভেতরেও নোংরা পরিবেশ বিরাজ করছে।

ব্যবহৃত টয়লেট ও ওয়াশরুম দেখে মনে হয়েছে সর্বশেষ কবে পরিষ্কার করা হয়েছে তা পরিচ্ছন্নতাকর্মীরাও সঠিকভাবে বলতে পারবেন না। সেগুলো ব্যবহারের প্রায় অনুপযোগী। তবুও অন্য কোনো উপায় না থাকায় রোগী ও তাদের স্বজন বাধ্য হয়ে সেগুলো ব্যবহার করছেন। রোগীর স্বজনরা বলছেন, এমন পরিবেশে যে কোনো সুস্থ শিশুও অসুস্থ হয়ে পড়ছে। প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আসা রোগীর স্বজনরা বলছেন, স্থানীয় ডাক্তাররা তাদের এখানে আসার পরামর্শ দিয়েছেন।

কিন্তু তারা জানতেন না যে, এ হাসপাতালের পরিবেশের এমন অবস্থা হবে। তারা
জানলে এখানে তাদের শিশুকে ভর্তি করাতেন না বলে জানান অনেকে। তাদের দাবি
হাসপাতালের পরিবেশের সমস্যা যেন অতিদ্রুত সমাধান করা হয়। হাসপাতালে দূর
থেকে আসা রোগীর স্বজনদের জন্য নেই পর্যাপ্ত থাকার ব্যবস্থা। এমনকি গরিব
রোগীরা অর্থ সংকটে সিট না পেয়ে নিরুপায় হয়ে হাসপাতালের বাইরে পলিথিন বিছিয়ে
রাত পার করে।

সেই সঙ্গে বাড়তি ফি আদায়ের উদ্দেশ্যে রোগীর অপারেশন কার্যে বিলম্বসহ
বিভিন্ন অজুহাতে হাসপাতালে দিনের পর দিন ভর্তি করিয়ে রাখার অভিযোগ করেছে
একাধিক রোগীর স্বজন। এতে তাদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। কিন্তু এসব
সমস্যার কোনো কার্যকরী সমাধান নেই। হাসপাতালে আধুনিক যন্ত্রপাতি নেই বললেই
চলে। এখানে নিজস্ব কোনো সিটি স্ক্যান মেশিন নেই। একটি এ-ক্সরে মেশিন থাকলেও
তা কোনোভাবেই পর্যাপ্ত নয়। যাবতীয় পরীক্ষা বাইরে করতে হয়।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে ৬৫০ আসনবিশিষ্ট এ হাসপাতালটিতে ২৫
জন অধ্যাপক, ১৭ জন সহযোগী অধ্যাপক, দু’জন সিনিয়র কনসালট্যান্ট এবং ৩০ জন
সহকারী অধ্যাপক, ২৯৬ জন নার্স এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ ৮৩৭ জন নিয়োজিত
রয়েছেন।

এদিকে, পর্যাপ্ত আসন সংকট, আধুনিক যন্ত্রপাতির অভাব, জনবল কাঠামোয়
সমস্যা, পরিচ্ছন্নতা কর্মী সংকট, পর্যাপ্ত নার্স সংকট ও তাদের এবং
ইমার্জেন্সি ডাক্তারদের আবাসিক হোস্টেল সংকটসহ নানাবিধ কারণে এ হাসপাতালের
চিকিৎসা সেবায় প্রতিনিয়ত সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। এ কারণে দেশের প্রত্যন্ত
অঞ্চল জেলা ও উপজেলা থেকে ছুটে আসা রোগী ও তাদের স্বজনরা পড়েছেন চরম
বিড়ম্বনায়।

Recommend to friends
  • gplus
  • pinterest

About the Author