জমে উঠেছে পশুর হাট

কয়েকদিন বেচাকেনা না থাকলেও গতকাল থেকে জমে উঠেছে রাজধানীর পশুর হাটগুলো। বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাসের কারণে অন্যবারের তুলনায় এবার হাটে ক্রেতা কম এলেও, পশু বেচা-কেনা শুরু হয়েছে।

প্রতিবছর পশুর হাটে বড় গরুর নাম দেয়া হয় ‘কালো মানিক, সাদা পাহাড়, কালা পাহাড়, সিনবাদ, মেসি, রাজাবাবু, সম্রাট, টাইগার, লাল বাহাদুর, বীর বাহাদুর সোনামণি- লক্ষ্মীসোনাসহ এমন নানান কিসিমের নাম। রাজধানীর পশুর হাটে বিশালাকৃতির গরুগুলো ক্রেতা ও দর্শকদের কাছে কদর বেশি। কেউ দেখেন চোখ জুড়ান কেউ ক্রয় করেন।

কিন্তু এবার কোরবানির পশুর হাটে বিশালাকৃতির গরুর তেমন কদর নেই। তবে বিক্রেতারা জানান, মাঝারি সাইজের গরুর চাহিদা সবচেয়ে বেশি। আগের তিন চার দিন বেচাবিক্রি না হলেও গতকাল প্রচুর গরু বিক্রি হয়েছে। 

পশুর হাটে পর্যাপ্ত কোরবানির পশু থাকলেও ক্রেতারা বলছেন, ব্যাপারীরা দাম ছাড়ছেন না। দাম বেশি চেয়ে বসে থাকছেন। আবার ব্যাপারীরা বলছেন, বড় গরুর তুলনায় ছোট ও মাঝারি গরুর চাহিদা বেশি। বড় গরুর ক্রেতা কম আসছে। তবে গতকাল রাজধানীর হাটগুলোতে প্রচুর গরু বিক্রি হয়েছে। ব্যবসায়ীদের ভাষায় বিক্রির ধুম।

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায় রাজধানীর শাহাজাহানপুর রেলওয়ে কলোনী কোরবানির গরুর হাটে বীর বাহাদুর ও সোনামণি-লক্ষীসোনা নামের বিশালাকৃতির গরু উঠেছে। কিন্তু আগের বছরগুলোর মতো এবার তাদের কদর নেই। শাহজাহানপুরে কোরবানির হাট চালুর প্রথম দিন থেকেই এই হাটের সবচেয়ে বড় গরু হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে ‘বীর বাহাদুর’ ও ‘সোনামণি-লক্ষীসোনা’ নামের বিশালাকার দুটি গরু। কয়েকদিন ধরে গরু দুটি দেখতে মানুষ ভিড় করলেও দাম বেশি হওয়ায় কিনতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না কোনো ক্রেতা। এই নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেন গরু দুটির মালিক মো. মজনু শেখ।

মেহেরপুর থেকে হাটে এসেছেন মো. আমিনুল ব্যাপারী। তিনি বলেন, আমি এবার হাটে দশটি গরু নিয়ে এসেছি। আমার সবগুলো গরু ছিল গৃহস্থের। সব গরু বিক্রি করে ফেলেছি। গতবারও হাটে গরু এনেছিলাম, কিন্তু লাভ করতে পারিনি। এবার যে দাম পেয়েছি কোনোমতে অল্প লাভে বিক্রি করে দিয়েছি সব গরু। ক্ষতির ভয়ে দুইদিন আগে বিক্রি করে ফেলেছি। আমার দশটা গরু ১৭ লাখ টাকায় বিক্রি করেছি। হাটে বড় গরুর চেয়ে মাঝারি আর ছোট গরুর চাহিদা অনেক বেশি।

গাবতলী পশুর হাট পরিচালনা কমিটির সদস্য মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, বেচা-কেনা ভালো হচ্ছে। ঈদের আগের রাতে কী হবে আগে থেকে কিছু বলা যাচ্ছে না। করোনা ভাইরাস আর বৃষ্টির কারণে শেষ দিন বেচা-কেনা কম হতে পারে। শনিরআখড়া হাটে দেখা গেল বেশ গরু বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতারা বলেন, গত কয়েকদিনের তুলনায় বৃহস্পতিবার প্রচুর গরু বিক্রি হয়েছে।

Recommend to friends
  • gplus
  • pinterest

About the Author