করোনা ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা

নভেল করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব, সংক্রমণ, তা থেকে অসুস্থতা আবার সুস্থতা লাভ এবং চরম পর্যায়ে অনেকের মৃত্যু আমাদের অনেক কিছু শিখিয়েছে খুব কম সময়ের মধ্যে। সময় যত যাচ্ছে আমরা আরও নতুন নতুন অনেক কিছু শিখছি- এ ভাইরাসের গতিবিধি, বৈশিষ্ট্য ও সংক্রমণের লক্ষ্য গোষ্ঠী সম্পর্কে। এ ভাইরাসে যেমন আক্রান্ত হয়েছে সদ্য ভূমিষ্ঠ শিশু, তেমনি আক্রান্ত হয়েছেন ১০০ বছরেরও বেশি বয়সী ব্যক্তি। আবার তাদের মধ্যে অনেকে সুস্থও হয়েছেন।

যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি তাদের কোন ভাইরাসই সহজে কাবু করতে পারে না। এ দলে আছেন খেটে খাওয়া মানুষ। বিশেষজ্ঞ ডাক্তাররা বলছেন, খাবারে যারা বাছবিচার বেশি করেন এবং কায়িক পরিশ্রমে ভয় পান, তাদেরই করোনার মত ভাইরাসে আক্রান্ত ও পরাজিত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে এবং প্রকৃতি সদয় হলে আগামী দু’ মাসের মধ্যেই করোনার তীব্রতা কমবে বলে আশা করছেন তারা।

কৃষিনির্ভর
হওয়ায় বাংলাদেশের বিশাল একটা জনগোষ্ঠীকে কাজ করতে হয় হাটে-মাঠে-ঘাটে।
এর সঙ্গে কয়েক দশক ধরে যোগ হয়েছে পোশাক খাত। দুই পেশার মানুষকেই প্রতিনিয়ত হাড়ভাঙা
খাটুনি খাটতে হয়। আবার এদের বেশিরভাগেরই উপার্জন সীমিত। ফলে তাদের খাদ্য তালিকায়
থাকে শাকসবজি,
কচু, লতাপাতা, ছোট
মাছসহ প্রোটিন ও পুষ্টিসমৃদ্ধ খাবার। পরিসংখ্যান বলছে, কায়িত
পরিশ্রম আর পুষ্টিতে ভরা খাবারের কারণে এদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বেশি।

ডাক্তারদের মতে, নানান ঘাত প্রতিঘাতের পরেও করোনা সংক্রমণ বর্তমান সময়ে স্থিতিশীল পর্যায়ে আছে। জীবনযুদ্ধের মাঝখানেই মানুষ যদি স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলে, তবে দুমাসের মধ্যেই কমে আসবে প্রকোপ। ভাইরাস প্রতিরোধে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখে অ্যান্টিবডি বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা। চিকিৎসকরা বলছেন যার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, বিপদটা হয় তারই বেশি ।

স্থান-কাল-পাত্রভেদে
এবং প্রাকৃতিক কারণে বাংলাদেশে প্রায় ৬শ বার জিন পাল্টেছে করোনা ভাইরাস। বাস্তবতা
হলো, আবিষ্কার
হলেও উৎপাদন ও প্রায়োগিক বিবেচনায় প্রতিষেধকও অনেক দূরের পথ। তাই করোনা
কবে নির্মূল হবে
তা জানে কেবল প্রকৃতি।

করোনা সংক্রমণ রোধে বাংলাদেশসহ প্রতিটি দেশের নীতি বা কর্মপন্থা এমন হওয়া উচিত যাতে এর দ্বারা সংক্রমণ ও প্রাণহানি দুটোই কমে। করোনাভাইরাস সমূলে উৎপাটিত হয়ে করোনামুক্ত একটা সুন্দর সকালের অপেক্ষায় রয়েছি আমরা সবাই।

Recommend to friends
  • gplus
  • pinterest

About the Author