করোনায় জীবিকা হারিয়ে মানবেতর জীবনে অসংখ্য মানুষ

করোনার প্রভাবে জীবিকা হারিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে অসংখ্য মানুষ। কর্ম হারিয়ে বেঁচে থাকার লড়াইয়ে নেমেছেন ভিন্ন পেশায়। এদের মধ্যে এমন মানুষও আছেন, যারা লজ্জায় নিজের বর্তমান পেশার কথা কাউকেই বলতে চান না। এমনকি পরিবারের সদস্যরাও জানে না, বাড়ির কর্তা এখন কী কাজ করেন।

অনেকের ঘরে খাবার নেই, চক্ষুলজ্জায় হাতও পাততে পারছেন না৷ অন্যদিকে ভাড়া পরিশোধের জন্য বাড়ি মালিকের চাপ, জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে মধ্যবিত্তদের৷ সামাজিক বাস্তবতায় কারো হাত পাততে গেলেও বাধা দেয় আত্মসম্মান। গণমাধ্যমে কথা বলার সুযোগ পেয়ে চক্ষুলজ্জা ভেঙ্গে সরকারের সহযোগিতা চাইলেন এদের অনেকেই।

সাতজনের পরিবার পারুল বেগমের। মিরপুরে স্বামীর একটি কাপড়ের দোকান আছে। যাবতীয় আয় সেখান থেকে। করোনা সংক্রমণের পর দীর্ঘদিন বন্ধ ছিলো সেই দোকান। এখন চালু হলেও বেচাকেনা কম। ফলে সংসার খরচ আর ঘর ভাড়া নিয়ে পারুলের যতো ভাবনা। চক্ষুলজ্জায় মানুষের কাছে সাহায্য চাইতে পারছেন না,এমনকি নিজেদের পরিস্থিতি বাইরের কাউকে তারা জানাতেও পারছেন না।

এই মুহুর্তে রাজধানীর নিম্ন ও মধ্যআয়ের বেশিরভাগ পরিবারের গল্পই একইরকম। যেমন রওশন আরা। সপ্তাহে দু’দিন বাজার করতে হয় তাকে। স্বামীর হোটেল বন্ধ ৪ মাস ধরে। হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন সংসার খরচের কতো জ্বালা।

কিছু মানুষ বাদে অন্যরা সবাই সংকটে আছেন৷ এদের মধ্যে বড় একটা অংশ চাকুরি
ঝুঁকিতে আছেন৷ অনেকেরই বেতন হয়নি, অনেক প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে৷ ফলে তারা
বেতন তো পাননি, উল্টো চাকুরি ঝুঁকিতে আছেন৷ এই মানুষগুলো সরকারি কোন
কর্মসূচির মধ্যেও নেই৷

 সরকারি গবেষণা সংস্থা বিআইডিএসের এক প্রতিবেদনে
বলা হয়েছে, করোনার প্রভাবে দেশে চাকরি হারিয়েছেন ১৩ শতাংশ মানুষ। আয় কমেছে ৬০
শতাংশের। যাদের বেশিরভাগই মধ্যবিত্ত। সামাজিক বাস্তবতার কারণে এদের পক্ষে কোন দান
বা সাহায্য গ্রহণ করা সম্ভব হয় না। ফলে এই শ্রেণির মানুষের অবস্থা এখন বেশি সঙ্গীন।

সাধারণ ছুটিতে বিভিন্ন সংস্থা
ও সংগঠনের সাহায্য পেলেও বর্তমানে নিম্নআয়ের মানুষের যাচ্ছেতাই অবস্থা। কাজ নেই তো
খাওয়াও নেই।

Recommend to friends
  • gplus
  • pinterest

About the Author