বিষখালীর ভাঙনে বিভীষিকাময় জীবন

প্রতি বছর বর্ষা এলেই ভাঙনের কবলে পরে ঝালকাঠির বিষখালী নদী তীরবর্তী মানুষ। এবছরও বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই বিষখালী নদীতে তীব্র ভাঙন শুরু হয়েছে। অন্য বছরের তুলনায় নদীর ভাঙ্গন তীব্র আকার ধারণ করেছে।

ভাঙনে ইতোমধ্যেই নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে বেশকিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বসতবাড়ি, সাইক্লোন সেন্টার, মসজিদ, বাজারসহ শতশত হেক্টর কৃষিজমি। ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে আরো বেশকিছু স্থাপনা। আকস্মিক ভাঙনে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোর বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

এরমধ্যে বিষখালী নদীর ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে রাজাপুর উপজেলার মঠবাড়ি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও লঞ্চঘাট, বড়ইয়া ইউনিয়নের কাঁচারিবাড়ি বাজার, চল্লিশকাহনিয়া ও মানকিসুন্দর গ্রাম, নলছিটি উপজেলার হদুয়া দরবার শরিফ, দেউরি সাইক্লোন সেন্টার, ভবানীপুর লঞ্চঘাট ও বাজার, বৈশাখীয়া প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মাদরাসা, চাঁনপুরা প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বেশকিছু স্থাপনা।

এ ছাড়া কাঁঠালিয়া উপজেলার আমুয়া বন্দর রয়েছে ভাঙনের ঝুঁকিতে। গত এক সপ্তাহ ধরে চলা তীব্র ভাঙন অব্যাহত থাকলে যে কোনো সময় নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে এসব স্থাপনা।

রাজাপুর বাঁদুরতলা এলাকার বাসিন্দা মোশারফ হোসেন বলেন, ‘বাড়িঘর আগেই নদীতে গেছে, গত এক সপ্তাহে বাঁদুরতলা লঞ্চঘাট এলাকায় বেশকিছু দোকান নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এখন মাধ্যমিক ও প্রাথমিক বিদ্যালয় ভাঙনের মুখে রয়েছে। এ ছাড়া বাদুরতলা বাজারটি গত পাঁচ বছরে একাধিকবার জায়গা পরিবর্তন করা হয়েছে। বর্তমানে বাজারটি আবারো ভেঙে যাচ্ছে।

নলছিটি ভবানীপুর গ্রামের স্কুলশিক্ষক আশ্রাফুর ইসলাম বলেন, ‘যে গতিতে নদী ভাঙছে, তাতে ভবানীপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও চাঁনপুরা প্রাথমিক বিদ্যালয় অচিরেই নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে। সরকার যদি কোনো পদক্ষেপ না নেয় তবে এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো রক্ষা করা যাবে না।

এ বিষয়ে রাজাপুর উপজেলার মঠবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল সিকদার বলেন, বিষখালী নদীর ভাঙনে দোকান, বসতবাড়ি ও ফসলি জমি হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছে শতাধিক পরিবার। আমরা তাদের সাধ্যমতো সহায়তা করছি। তবে দ্রুত নদীভাঙন ঠেকাতে না পারলে আরো অনেক পরিবার সর্বস্ব হারাবে।

এ ব্যাপারে ঝালকাঠি পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. রোমান হাসান বলেন, ইতোমধ্যেই ৩০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ নির্মাণের জন্য একটি প্রকল্প ঢাকায় প্রেরণ করা হয়েছে। এ ছাড়া আমুয়া বন্দর ও রাজাপুরে নদীভাঙন রোধে একটি প্রকল্প তৈরির কাজ চলছে।

ভাঙন রাক্ষুসি আকার ধারণ করার আগেই কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন এলাকাবাসী। আর ভাঙ্গন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করে ঝালকাঠি পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী দিপক রঞ্জন দাস জানালেন, বাধ নির্মাণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Recommend to friends
  • gplus
  • pinterest

About the Author