আমফানের তান্ডবে লন্ডভন্ড  উপকূল

ঘূর্ণিঝড় আমফানের তান্ডবে লন্ডভন্ড হয়ে গেছে উপকূলের জেলাগুলো। বিভিন্ন স্থানে ভেঙে গেছে বেড়িবাঁধ। এতে প্লাবিত হয়েছে নিম্নাঞ্চল। উপড়ে পড়েছে গাছপালা। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ঘরবাড়ি ও ফসল। বিভিন্ন স্থানে অন্তত ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে।  বিদ্যুৎহীন সময় কাটে ১০ জেলার অন্তত ৩৩ লাখ মানুষের। ইতিমধ্যে সব সমুদ্র বন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখানো হয়েছে।

উপকূলে তাণ্ডব চালানোর পর ঘূর্ণিঝড় আম্পান স্থল নিম্নচাপে পরিণত হয়ে আরও উত্তর-পূর্ব দিকে সরে গেছে। ইতিমধ্যে সব বন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল পৌনে ৯টার দিকে রংপুর অঞ্চল দিয়ে আরও উত্তর-পূর্ব দিকে সরে যায়।এরআগে বুধবার
সারারাত উপকূলীয় বিভিন্ন জেলায় তান্ডব চালায় আমপান। জলোচ্ছ্বাসে বিভিন্ন স্থানে ভেঙে গেছে বেড়িবাঁধ। ক্ষতিগ্রস্ত হয় ঘরবাড়ি ও ফসল। এতে প্লাবিত হয়ে নিম্নাঞ্চল।

বরিশাল বিভাগে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে পটুয়াখালীতে। উড়ে গেছে গলাচিপার বেশকিছু দোকান। পায়রা নদীর পানির তোড়ে শহররক্ষা বাঁধ ভেঙে কলাপাড়া ও রাঙ্গাবালির ২০টি গ্রাম প্লাবিত হয়। জেলা শহররক্ষা বাঁধ ভেঙে কয়েকটি এলাকায় পানি ঢুকে পড়ে।

গাছপালা উপড়ে পড়ায় বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে অনেক উপজেলার অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ। ক্ষতিগ্রস্ত হয় বিদ্যুতের খুঁটি। এ কারণে ঝুঁকি এড়াতে উপকূলীয় অঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে। এতে বিদ্যুতহীন হয়ে পড়েছেন প্রায় ৫৫ লাখ মানুষ।সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, খুলনাসহ দেশের উপকূলীয় অঞ্চলগুলোতে তাণ্ডব চালিয়েছে ঘূর্ণিঝড় আম্পান। নদী ভাঙ্গনের কবলে পড়েছে সাতক্ষীরার শ্যামনগর,কালিগঞ্জ, আশাশুনির ১৩টি পয়েন্ট। পানি ঢুকে পড়েছে লোকালয়ে।

রাজশাহী,কুষ্টিয়া ছাড়াও বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন উপকূলের বেশিরভাগ এলাকা।বাগেরহাটের মোংলা, পটুয়াখালী, খুলনা, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, ভোলা, নোয়াখালী, ফেনীসহ চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এদিকে, ঝড়ের তাণ্ডব কিছুটা কমলে আশ্রয়কেন্দ্র থেকে ঘরবাড়িতে ফিরতে শুরু করেছে মানুষ।

Recommend to friends
  • gplus
  • pinterest

About the Author