বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাস নিয়ে গবেষণা

বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাস
নিয়ে গবেষণার শেষ নেই। এখন পর্যন্ত এর প্রতিষেধক অবিষ্কার না হলেও ভাইরাসটির
উৎপত্তি, বৈশিষ্ট্য নির্ণয়ের পাশাপাশি পৃথিবীতে এর আয়ুষ্কাল নিয়েও পরীক্ষা-নিরীক্ষার
অন্ত নেই। কেউ বলছেন, জুলাইয়েই ধ্বংসলীলা থেমে যেতে পারে। আবার কেউবা বলছেন, পুরোপুরি
নির্মূল হবে না করোনা; প্রতি বছর ফিরবে নতুন রূপে।

গেলো
২৭ এপ্রিল, সিঙ্গাপুরের একদল গবেষক দাবি করেন, বাংলাদেশ থেকে ভাইরাসটি পুরোপুরি বিদায়
নিতে ১৫ জুলাই পর্যন্ত সময় গড়াতে পারে। আর পুরো বিশ্ব থেকে পুরোপুরি বিদায় নিতে
পারে ৮ডিসেম্বরের মধ্যে। ১৩১টি দেশে ভাইরাসটি বিস্তারের ধরন, মানবদেহে ক্ষতিকর
প্রভাব ও বৈশিষ্ট্যসহ নানা বিষয়ে গবেষণা শেষে সিঙ্গাপুর ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি অ্যান্ড
ডিজাইন, এসইউটিডি’র
ডেটা ড্রাইভেন ইনোভেশন ল্যাবের গবেষকেরা এমন দাবি করেন। করোনার বিদায়ের দিনক্ষণের
বিষয়ে এমন পূর্বাভাস এটাই প্রথম।

এর ঠিক দুদিন পরেই ২৯
এপ্রিল, চীনা গবেষকদের বরাত দিয়ে ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সংক্রমিত
জায়গাগুলো থেকে এ ভাইরাস দূর হবে না কখনো। বিপুল সংখ্যক উপসর্গহীন রোগীর
কারণে প্রতি বছর ভাইরাসটির ফিরে আসার আশঙ্কা আছে। চীনের শীর্ষ চিকিৎসা গবেষণা
প্রতিষ্ঠান ‘প্যাথোজেন বায়োলজি
ইনস্টিটিউট’র পরিচালক জিনের দাবি,
বিশ্ব থেকে কভিড-নাইনটিন পুরোপুরি নির্মূল হবে না। দীর্ঘকাল
ভাইরাসটি মানুষের সঙ্গে সহাবস্থান করবে। এক পর্যায়ে এটি মৌসুমী রোগ হিসেবে টিকে
থাকবে।

বিশেষজ্ঞদের
মতে, কোভিড-১৯, তার সমগোত্রের অন্য ভাইরাসগুলোর মতো নয়। এটি ‘সার্স’
বা ‘মার্সের তুলনায় পথ চলে ভিন্ন আঙ্গিকে। কোন অবস্থাতেই করোনার বিস্তার
বন্ধ থাকে না। আর উপসর্গহীন হওয়ায় এই ভাইরাসটি শনাক্ত করাও কঠিন।  একবার দীর্ঘ সংক্রমণের পথে হাঁটতে শুরু করলে তা
নির্মূলের পথটিও হবে অনেক লম্বা। তাই দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্য সচেতনতার কোন বিকল্প
নেই বলে জানান গবেষকরা।

Recommend to friends
  • gplus
  • pinterest

About the Author