মাস্ক ব্যবহারে তেমন সুফল নেই

ভাইরাস থেকে বাঁচতে মাস্কের ব্যবহার খুব একটা কাজে আসে না বলে মনে করেন চিকিৎসকরা। কারণ হিসেবে তারা বলছেন, বেশিরভাগ মাস্ক নাক ও মুখ সঠিকভাবে ঢেকে রাখতে পারে না। আর সার্জিক্যাল মাস্ক একবার ব্যবহার করার পরেই ফেলে দিতে হবে। এছাড়া এন নাইনটি ফাইভ এবং ত্রিস্তরযুক্ত সুতি বা টেরিলিন কাপড়ের মাস্ক ব্যবহার করলে প্রতিদিন তা পরিষ্কার করতে হবে।

ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে বিশ্বের বহু দেশেই একটি জনপ্রিয় ব্যবস্থা হচ্ছে মাস্ক ব্যবহার। বিশ্বে প্রথম সার্জিক্যাল মাস্কের প্রচলন শুরু হয় আঠারো শতকে। কিন্তু ১৯১৯ সালে স্প্যানিশ ফ্লুর আগ পর্যন্ত এটি আমজনতার হাতে এসে পৌঁছায়নি। ওই মহামারিতে প্রাণ হারায় অন্তত ৫ কোটি মানুষ।

চিকিৎসকদের মতে, সাধারণ সার্জিক্যাল
মাস্ক বায়ুবাহিত ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে সুরক্ষা দিতে যথেষ্ট নয়। খুব বেশি ঢিলেঢালা হওয়ায়
এটি ঠিকমত বাতাসকে ফিল্টার করতে পারে না। তাছাড়া এটি ব্যবহারে কেবল নাকমুখই
ঢাকা থাকছে,চোখ থাকছে উন্মুক্ত। তবে হাঁচি বা কাশি থেকে ভাইরাসের
সংক্রমণের ঝুঁকি কিছুটা কমাতে সাহায্য করতে পারে এই মাস্ক।

২০১৬ সালে অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ
ওয়েলসের একদল গবেষক জানান,
মানুষ প্রতি ঘণ্টায় গড়ে ২৩ বার হাত দিয়ে নিজের মুখ স্পর্শ করে। তাই হাত থেকে মুখে সংক্রমণ
ঠেকাতে মাস্ক ব্যবহারের সুফল অস্বীকার করার উপায় নেই। অবশ্য বায়ুবাহিত ভাইরাসের
সংক্রমণ ঠেকাতে মাস্ক কতটা কার্যকর সে ব্যাপারে যথেষ্ট সন্দিহান ভাইরাস বিশেষজ্ঞ বা
ভাইরোলজিস্টরা।

চিকিৎসকরা
বলছেন,বাস্তবে হাসপাতালের বাইরে মাস্ক ব্যবহারের ব্যাপকভিত্তিক উপকার পাওয়ার নজির
খুব কমই আছে। যদি উপকার পেতেই হয় তবে মাস্ক পরতে হবে সঠিকভাবে। তার চেয়েও জরুরি হলো, যেকোন পরিবেশে
নিজেকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। পাশাপাশি জোর দিতে হবে
হাতটি যেন কোনভাবেই অপরিষ্কার না থাকে।

Recommend to friends
  • gplus
  • pinterest

About the Author