করোনা ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য আশীর্বাদ

মহামারী হিসেবে আবির্ভূত করোনাভাইরাসের কারণে অন্যরকম সুফল পেতে শুরু করেছে পৃথিবী। টানা লকডাউনের কারণে সব ধরনের দূষণ কমে প্রকৃতি ধীরে ধীরে হয়ে উঠছে ঝরঝরে। বায়ুদূষণে যে ঢাকার অবস্থান ছিল শীর্ষে, তা চট করে নেমে এসেছে তিন নম্বরে। করোনাকে মানবজাতির জন্য অভিশাপ বললেও, অন্যঅর্থে তা ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য আশীর্বাদ মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।

গোটা বিশ্ব নাস্তানাবুদ ক্ষুদ্র এক ভাইরাসের ভয়ে। প্রায় দেড়শ কোটি মানুষ বিভিন্নভাবে বন্দি হয়ে আছে গৃহে। সে এক দমবন্ধকর অবস্থা। করোনা ভাইরাস আতঙ্কে স্থবির হয়ে গেছে বিশ্ব। থমকে গেছে অর্থনীতি। তবে এর মধ্যেই অন্যরকম সুখবর দিয়েছেন পরিবেশবাদিরা।

লকডাউনের
কারণে বিভিন্ন দেশে বন্ধ রয়েছে স্থল, জল ও আকাশপথে যোগাযোগ। সড়ক যানবাহনশূন্য, নেই
ধুলোবালি ও কলকারখানার কালোধোঁয়া। ফলে কমে গেছে কার্বন নি:সরণ। কিছুদিন আগেও
ঢাকার বায়ুমান সূচক উঠেছিল
৩৯১ পর্যন্ত। ২৫ ফেব্রুয়ারি
তা নেমে আসে অর্ধেকেরও
নিচে-১৫৭ তে।

দূষণ কমে আসছে নদনদী ও সাগর মহাসাগরে। বৈশ্বিক উষ্ণতা হ্রাস পেয়ে কমেছে বরফগলা। নির্মল আকাশে বেড়েছে পাখিদের বিচরণ। বিজ্ঞানীদের মতে, লকডাউনের এ প্রক্রিয়া যদি এক বছর অব্যাহত থাকে, তবে পৃথিবীর দূষণ কমবে প্রায় ৪৫ শতাংশ। ক্লোরোফ্লোরো র্কাবন বা সিএফসি নি:সরণে ক্ষতিগ্রস্ত ওজোনস্তরও অনেকটাই সেরে উঠছে করোনাতঙ্কে স্থবির বিশ্বের কারণে।

প্রকৃতির
নিয়মটাই আসলে এরকম। একপৃষ্ঠে যদি থাকে ধ্বংস তাহলে তার
অন্যপিঠে নিশ্চিত করেই থাকবে সৃষ্টিশীল কিছু। করোনা ভাইরাসের বেলাতেও হয়েছে তা-ই। তার মরণকামড়ে ঝাঁকে ঝাঁকে মৃত্যু হলেও
বিশ্বপরিবেশ নতুন করে প্রাণ ফিরে পাচ্ছে। হয়তবা কোন এক সময় দেখা দেখা যাবে, এটি ভবিষ্যত প্রজন্মের
জন্য আশীর্বাদ বয়ে এনেছে, বলছেন বিজ্ঞানীরা।

Recommend to friends
  • gplus
  • pinterest

About the Author