আজ ১০ জানুয়ারি,জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস। ১৯৭২ সালের এ দিনে বঙ্গবন্ধু ফিরে আসেন শত্রুমুক্ত স্বাধীন বাংলাদেশে। ২’শ’ ৯০ দিন পাকিস্তানে কারাভোগের পর স্বাধীনতার স্বপ্নদ্রষ্টা পা রাখেন, মুক্ত-স্বাধীন বাংলার মাটিতে।

১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বঙ্গবন্ধুর এই বজ্রঘোষণার পরপরই গোটা বাংলায় চলতে থাকে যুদ্ধের প্রস্তুতি। বঙ্গবন্ধু না থাকলে অঙ্কুরেই শেষ হয়ে যাবে বাঙালির মুক্তির লড়াই।

এমন ভাবনা থেকেই ২৫শে মার্চ কালরাতে বঙ্গবন্ধুকে বন্দি করে পশ্চিম পাকিস্তানে নিয়ে যায় ইয়াহিয়া সরকার। প্রিয় নেতার বন্দি হবার খবরে ফুঁসে ওঠে গোটা জাতি। স্বাধীনতার জন্য টানা প্রায় নয় মাস চলে রক্তক্ষয়ী লড়াই।

স্বাধীনতার পর আন্তর্জাতিক চাপে ৭২ সালের ৮ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুকে মুক্তি দেয় পাকিস্তান সরকার। লন্ডনে স্বাস্থ্যপরীক্ষা শেষে ভারত হয়ে ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি প্রিয় জন্মভূমিতে পা রাখেন জাতির জনক।

সব অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে স্বাধীন বাংলার মাটি স্পর্শ করে জাতির জনককে বহনকারী বিশেষ বিমান। বাংলাদেশের আকাশ-বাতাস কাঁপিয়ে ধ্বনিত হয় জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু স্লোগান।

মহানায়কের আগমণে আপ্লুত হলো জাতি। যেন পূর্ণতা পেলো স্বাধীনতা। বিমানবন্দরে অস্থায়ী সরকারের সদস্য, মুক্তিযোদ্ধা, সবাই বরণ করলেন ইতিহাসের বরপুত্রকে।

জনতার উত্তাল ঢেউ পারি দিয়ে দৃপ্ত পায়ে মঞ্চে এলেন স্বাধীনতার মহাকবি। সদ্য স্বাধীন দেশের জনগণের সামনে ভাষণ দিতে গিয়ে আবেগে আপ্লুত হলেন তিনি।

সেদিনের ১৭ মিনিটের ভাষণে ছিল জাতির জন্য দিক-নির্দেশনা। মন্ত্রমুগ্ধ জনতাও দু’হাত তুলে দেশ গড়ার সেই সংগ্রামে ঐক্যবদ্ধভাবে ঝাঁপিয়ে পড়ার অঙ্গীকার করেন।

ধ্বংসস্তুপের ওপর দাঁড়িয়ে বঙ্গবন্ধু শুরু করেন দেশ গড়ার কাজ। কিন্তু একাত্তরে পাকিস্তানি হায়েনারা যা করতে পারেনি, সে কাজটি ঠান্ডা মাথায় সম্পন্ন করে এ দেশেরই কয়েকজন বিপথগামী সেনাসদস্য। পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট রাতে নির্মমভাবে স্ব-পরিবারে হত্যা করা হয়  স্বাধীনতার মহানায়ক।

হায়েনারা ব্যক্তি মুজিবকে হত্যা করলেও, পারেনি হিমালয়সম নেতা বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে নিঃশেষ করতে। জাতির জনক স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করেছিলেন যে স্বপ্ন নিয়ে তা তিল তিল করে বাস্তবায়ন করছেন তাঁরই আত্মজা।

Recommend to friends
  • gplus
  • pinterest

About the Author