বৃটিশ নাগরিক লুসি ফ্রান্সিস হেলেন হল্টকে বাংলাদেশে নাগরিকত্বের চূড়ান্ত সনদ দিলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিকেলে গণভবনে নাগরিকত্বের সনদ তুলে দেন তিনি। ১৯৬০ সাল থেকে বাংলাদেশের তৃণমূল পর্যায়ের মানুষেরা তাঁর সেবা পাচ্ছেন।

মোহনা টেলিভিশনে সংবাদ প্রচার হয়েছিল বৃটিশ নাগরিক লুসি ফ্রান্সিস হেলেন হল্টকে নিয়ে। ৫৭ বছর ধরে বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে মানবসেবা করা এ নারীর মুক্তিযুদ্ধেও রয়েছে অসামান্য অবদান। তিনি তখন বলেছিলেন চিরনিদ্রায় শায়িত হতে চান বাংলার মাটিতে। চেয়েছিলেন নাগরিকত্বও।

গেল ১২ ফেব্রুয়ারি ৮৮ বছর বয়স্ক লুসিকে নাগরিকত্ব দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয় আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে। সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে লুসি ফ্রান্সিস হেলেন হল্ট বাংলাদেশের নাগরিকত্ব পেলেন। স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মেয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর  হাতে নাগরিকত্ব সনদ তুলে দেন। প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে নাগরিকত্ব সনদ পেয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে ওঠেন জীবন সায়াহ্নে আসা লুসি হল্ট।

১৯৩০ সালের ১৬ ডিসেম্বর ইংল্যান্ডের সেন্ট হ্যালেন্স শহরে জন্মগ্রহণ করেন লুসি। ১৯৬০ সালে বরিশালের অক্সফোর্ড মিশন হাসপাতালের সেবায়েত হিসেবে যোগদান করেন। অক্সফোর্ড মিশন স্কুলে বিনা বেতনে তিনি পাঠদান করতেন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় যশোর ক্যাথলিক চার্চে কর্মরত ছিলেন লুসি। যুদ্ধের সময় চার্চটি বন্ধ করে দেয়ায় জীবনবাজি রেখে নিকটবর্তী ফাতেমা হাসপাতালে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের দেখভাল করেছেন তিনি। এছাড়া যশোর, খুলনা, নওগাঁ, ঢাকা ও গোপালগঞ্জের আর্থিক অস্বচ্ছল ও দুঃস্থদের পাঠদান ও সেবা করেন লুসি।

২০০৪ সালে তিনি অবসর নেয়ার পরও বরিশাল অক্সফোর্ড মিশনে মানসিক বিকাশ ও ইংরেজি শিক্ষায় নিয়োজিত আছেন। তার আবেদনের প্রেক্ষিতে গত ৮ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী বরিশাল সফরকালে লুসিকে ১৫ বছরের জন্য ফি-মুক্ত মাল্টিপল ভিসা প্রদান করেন।

 

Recommend to friends
  • gplus
  • pinterest

About the Author

Leave a comment