শ্রীলংকা-ভারত ফাইনাল লেখা গাড়ি পার্কিংয়ের পাস থেকেই প্রমাণ হলো স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে শ্রীলংকার। এ আমন্ত্রন পত্র দেখে, নাজমুল হাসান পাপন লংকান বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে পরিস্কার জানিয়ে দেন- কার পার্কিংয়ে ‘বাংলাদেশ-ভারত’ লিখতে হবে। গতকাল দুপুর পর্যন্ত নতুন টিকিট ছাপা হয়নি। আসলে আগের রাতে বাংলাদেশের কাছে হারের ধাক্কাটা এতটাই জোরে লেগেছে যে, নিজেদের স্বাধীনতা কাপে এখন তারাই দর্শক! আগের রাতে লংকান দর্শকদের কাছে হেনস্তা দুই টাইগার সমর্থক শোয়েব আলী আর বুলু ঘোষ এরই মধ্যে বাংলাদেশ দলের ম্যানেজার খালেদ মাহমুদ সুজনের কাছে আজকের ফাইনালে পুলিশি নিরাপত্তা চেয়ে আবেদন জানিয়েছেন।

বাংলাদেশি মিডিয়াকে হটাতে পুলিশ ডাকার হুমকি পর্যন্ত দেওয়া হয়েছে। লংকান বোর্ডও রাতারাতি যেন বদলে গেছে। সেদিন রাতেই ম্যাচ রেফারির কাছে প্রেমাদাসা স্টেডিয়াম কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে একটি অভিযোগপত্র দায়ের করা হয়েছে। যেখানে তারা ড্রেসিংরুমের কাচ ভাঙার জন্য দায়ীদের শাস্তির দাবি তুলেছে।

লংকানদের মনে তৈরি হওয়া বিদ্বেষটা কীভাবে মোকাবেলা করা যায়- এ প্রশ্ন বাংলাদেশের ক্রিকেট বোর্ডের কর্মকর্তাদের মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে। ‘আসলে ওরা এবার আমাদের এই ত্রিদেশীয় টুর্নামেন্টে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল ভারতের সঙ্গে ফাইনাল ম্যাচটা খেলার আশা থেকে। ওরা ভাবতেও পারেনি যে, এভাবে ওদেরই হারিয়ে দেব আমরা। ব্যাপারটি ঠিক মেনে নিতে পারছে না ওদের কেউ। আমরা একই হোটেলে ছিলাম, এতদিন দেখা হলে হাই-হ্যালো করত। কিন্তু হারের পর ওরা আর কথাই বলছে না।’ জাতীয় দলের যে ক্রিকেটার কথাটি বলেছেন তার অনুরোধে নামটি লেখা হলো না। আজকের ফাইনালের জন্য অনেক আগে থেকেই তারা টিকিট বিক্রি শুরু করেছিল। বিক্রিও হয়ে গেছে অনেক। গতকাল কলম্বোর জনপ্রিয় দৈনিকেও ছিল হতাশা আর কষ্টের সুর। সিলন টুডের শিরোনাম- মাহমুদুল্লাহর ব্যাটে স্বপ্নভঙ্গ লংকার।

আসলে ম্যাচ হারার চেয়েও এখানকার লোকের মুখে মুখে বেশি চলছে ওই ম্যাচে সাকিবের প্রতিবাদমুখর অবস্থান। সে সঙ্গে বাংলাদেশিদের ‘নাগিনী ড্যান্স’। তারা যেন ভাবতেই পারছে না এভাবে মুখের খাবার কেড়ে নিতে পারে টাইগাররা।

Recommend to friends
  • gplus
  • pinterest

About the Author

Leave a comment