শুরু হলো অগ্নিঝরা মার্চ, মহান স্বাধীনতার মাস। দীর্ঘ শোষণ বঞ্চনার পর, ১৯৭১-এর মার্চে উত্তাল গণআন্দোলন পরিণতি পায় স্বাধিকার ও স্বাধীনতার আন্দোলনে। শুরু হয় প্রতিরোধ যুদ্ধ। যা ২৫ মার্চে পাকিস্তানি হানাদারদের নৃশংস হামলায় রূপ পায় রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধে।

দ্বি-জাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে ১৯৪৭ সালে ভাগ হলো ভারতীয় উপমহাদেশ। একদিকে ভারত,  অন্যদিকে হাজার মাইলের দূরত্বে দু’টি ভূখন্ড নিয়ে হলো পাকিস্তান রাষ্ট্র। পাকিস্তানের দুই অংশের মধ্যে, যে কোন বিবেচনায় পূর্ব পাকিস্তান ছিল অগ্রসর। কিন্তু রাজনীতির নেতিবাচক প্রভাবে পশ্চিম অংশ হয়ে ওঠে শাসক ও শোষক। তারা আঘাত হানে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির ওপর। শুরু হয় লড়াই।

১৯৫৪ সালের নির্বাচনে হক-ভাসানি-সোহরাওয়ার্দীর যুক্তফ্রন্টকে জনগণ বিজয়ী করে। কিন্তু দু’বছরের বেশী ক্ষমতায় টিকতে পারলেন না বাঙালি নেতারা। এলো আইয়ুব খানের সামরিক শাসন। বাঙালির দ্রোহের আগুনে বিদায় নিতে হয় লৌহমানব আইয়ুবকে।

আইয়ুব খানের পর ক্ষমতায় আরেক সামরিক জান্তা জেনারেল ইয়াহিয়া খান। ১৯৭০-এর নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায় শেখ মুজিবুর রহমানের আওয়ামী লীগ। আবারো ষড়যন্ত্র, এবার ইয়াহিয়ার সঙ্গে আঁতাত করেন পাকিস্তান পিপলস পার্টি নেতা জুলফিকার আলী ভুট্টো।

জয়ী দল আওয়ামী লীগের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর না করে ইয়াহিয়া সরকার পূর্ব বাংলায় নেয় পোড়ামাটি নীতি। ফলে শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধের প্রতিরোধ পর্ব।

১৯৭১ এর পয়লা মার্চ উত্তাল হয়ে ওঠে পূর্ব পাকিস্তানের রাজধানি ঢাকাসহ ৫৬ হাজার বর্গমাইলের প্রতিটি জনপদ।

 

Recommend to friends
  • gplus
  • pinterest

About the Author

Leave a comment