পিলখানা হত্যাকাণ্ডের নবম বার্ষিকী আজ। ২০০৯ সালের এ দিনে বিপথগামী কিছু সদস্যের সশস্ত্র বিদ্রোহে নিহত হয়েছিলেন ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জন।

২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি বিডিআর সদর দফতরে বিদ্রোহ করে একদল বিপথগামী জওয়ান। দরবার হল থেকে শুরু হওয়া এ বিদ্রোহ ছড়িয়ে পড়ে, দেশের বিভিন্ন স্থানে থাকা বিডিআর ক্যাম্পে। পিলখানা দুইদিন দখলে রেখে মহাপরিচালক শাকিল আহমেদ ও তার স্ত্রীসহ হত্যা করা হয় ৭৪ জনকে।

দীর্ঘ তদন্তে চিহ্নিত হয় ৮৫০ জন। রাজধানীর বকশিবাজারে, বিশেষ আদালতে ২০১৩ সালের ৫ নভেম্বর এদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার রায় ঘোষিত হয়। রায়ে ডিএডি তৌহিদসহ ১৫২ জনের মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন আদালত। বিএনপি নেতা নাসিরউদ্দিন পিন্টু, আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতা তোরাব আলীসহ ১৬১ জনকে দেয়া হয় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। এছাড়া বিভিন্ন মেয়াদে সাজা পেয়েছেন ২৫৬ জন। খালাস পান ২৭৭ জন। ৪ জন মারা যান বিচার চলাকালে।

বিদ্রোহের অপরাধে বিডিআরের নিজস্ব আদালতে চাকরি থেকে অব্যাহতি, কারাদণ্ডসহ বিভিন্ন মেয়াদে সাজা হয়েছে ৫ হাজার ৯২৬ জনের। খালাস পান ১১৫ জন।

খালাসপ্রাপ্ত ২৭৭ জনের মধ্যে ৬৯ জন আসামির বিপক্ষে আপিল ও ডেথ রেফারেন্স দায়ের করে রাষ্ট্রপক্ষ। অন্যদিকে, দণ্ডপ্রাপ্ত ৪১০ জনের সাজা বাতিল চেয়ে আপিল করেন তাদের আইনজীবীরা। এরপর ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানির জন্য বৃহত্তর বেঞ্চ গঠন করা হয়।

গেল বছরের ২৬ নভেম্বর হাইকোর্টের বিশেষ বেঞ্চ আপিলের রায় ঘোষণা করেন। এতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১৫২ আসামির মধ্যে ১৩৯ জনের ফাঁসির দণ্ড বহাল রেখে ৮ জনকে যাবজ্জীবন ও ৪ জনকে খালাস দেয়া হয়।

যাবজ্জীবন দণ্ড পাওয়া ১৬০ জনের মধ্যে ১৪৬ জনের সাজা বহাল রাখা হয়। আর খালাস পাওয়া ৬৯ জনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আপিলে ৩১ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন হাইকোর্ট। এছাড়া জজ আদালতের দেয়া কারাদণ্ড কমিয়ে ১৯৪ জনকে বিভিন্ন মেয়াদের সাজা এবং ২৯ জনকে খালাস দেয়া হয়। এসময় সাজাপ্রাপ্ত বিএনপি নেতা নাসিরউদ্দিন পিন্টু অসুস্থ হয়ে মারা যান।

পিলখানা হত্যাকাণ্ডের পর ২০১০ সালে বিডিআর-এর নাম পরিবর্তন করে, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ, বিজিবি করা হয়।

 

Recommend to friends
  • gplus
  • pinterest

About the Author

Leave a comment