বাতাসে এখন ফোরজির গুঞ্জন। ১৯ ফেব্রুয়ারির পরে যেকোনও সময় চালু হবে ফোরজি। তবে সব মোবাইল ফোন ব্যবহারকারী এই সেবা পাবেন না। দেশে স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের মধ্যে মাত্র ১০ ভাগ গ্রাহক তাদের মোবাইলে ফোরজি ব্যবহার করতে পারবেন।

বাংলাদেশ মোবাইল ফোন ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমপিআইএ) সভাপতি রুহুল আলম আল মাহবুব জানান, দেশে বর্তমানে তিন কোটির কিছু বেশি স্মার্টফোন ব্যবহার হচ্ছে। এর মধ্যে মাত্র ১০ ভাগ সেট ফোরজি সমর্থিত।

মোবাইল ফোন আমদানিকারকদের সূত্রে জানা গেছে, বাজারে এখন ১০ হাজার টাকার ওপরে যেসব স্মার্টফোন পাওয়া যাচ্ছে, সেগুলো ফোরজি সমর্থন করে।

বিএমপিআইএ-এর সাবেক সাধারণ সম্পাদক রেজওয়ানুল হক বলেন, ‘ডিভাইস বাজার (মোবাইল ফোন, মডেম, ট্যাব) মোটামুটি রেডি। দেশে এখন যত স্মার্টফোন প্রবেশ করছে, তার ১০-২০ শতাংশ ফোনে ফোরজি ব্যবহার করা যাবে।’ তিনি জানান, ২০১৭ সালে দেশে তিন কোটি ৪০ লাখ মোবাইল ফোন সেট এসেছে । ২০১৬ সালে এ সংখ্যা ছিল প্রায় তিন কোটি। ২০১৫ সালে এসেছিল দুই কোটি ৬০ লাখ হ্যান্ডসেট।’

অথচ মোবাইল ফোনের অপারেটর ও আমদানিকারকরা বলছেন, তারা ফোরজি সেবাদানের জন্য রেডি। এখন তাদের অপেক্ষা ফোরজি সেবা চালুর দিনটির জন্য, যাতে গতিই হবে মূল আকর্ষণ।

যদিও মোবাইল ফোন অপারেটরগুলোর সংগঠন অ্যামটবের সাধারণ সম্পাদক টিআইএম নুরুল কবির বলেছেন, ‘‘দেশে এখনই ফোরজি চালুর উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হয়নি। অনেকগুলো ইস্যুর এখনও ‘মীমাংসা’ হয়নি।’’

মঙ্গলবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) স্পেক্ট্রাম তথা তরঙ্গের নিলামের পরপরই মোবাইল ফোন অপারেটরগুলো ঘোষণা দেয়, তারা যেকোনও সময় ফোরজি চালুর জন্য তৈরি।  একবছর আগে থেকে অপারেটরগুলো ফোরজি সিম বাজারে ছাড়তে শুরু করে। এরই মধ্যে অপারেটরগুলো নেটওয়ার্ক আপডেট করেছে, ফোরজির পরীক্ষামূলক অপারেশন চালিয়ে সফলতাও পেয়েছে। অপেক্ষা ছিল তরঙ্গ নিলাম ও ফোরজির লাইসেন্স হস্তান্তরের। তরঙ্গ নিলাম সম্পন্ন হয়েছে। লাইসেন্স হাতে পেলেই চালু করবে ফোরজি।
মোবাইল ফোন অপারেটররা বলছেন, ফোরজি সেবা দিতে একটি ডিভাইস প্রয়োজন। ওই ডিভাইসে টিউনিং করে দেওয়া হয়— অপারেটরটিকে কত ব্যান্ডের কোন ব্লকে (ধরা যাক, মেগাহার্টজ তরঙ্গ) তরঙ্গ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। যদিও এর আগে মোবাইল ফোন অপারেটররা নিলাম থেকে বিভিন্ন ব্যান্ডে তরঙ্গ (১৮০০ ও ২১০০ মেগাহার্টজ)কিনে নেয়। এরই সঙ্গে টেক নিউট্রালিটি তথা প্রযুক্তি নিরপেক্ষতার (যেকোনও মেগাহার্টজের তরঙ্গ ব্যবহার করে ফোরজি সেবা দেওয়া যাবে, যা আগে ছিল না। তখন যে ব্যান্ডের তরঙ্গ- সেই প্রযুক্তির জন্য তথা টুজি বা থ্রিজিতে দিতে হতো) সুবিধা দেওয়ায় ফোরজি চালু করা এবং সেবার মান বাড়ানো সহজ হয়েছে।

জানা যায়, অপারেটররা এরই মধ্যে ওইসব ডিভাইস সংগ্রহ করেছে।  লাইসেন্স হাতে পেলেই নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমতি নিয়ে অপারেটররা তা টিউনিং করবে।
গ্রামীণফোনের প্রধান নির্বাহী মাইকেল ফোলি বলেন, ‘আমরা একহাতে লাইসেন্স নেবো, অন্য হাতে ফোরজি চালু করে দেবো।’ তিনি জানান, গ্রামীণফোনের মোট গ্রাহকের মধ্যে ১৪ শতাংশ ব্যবহারকারী ফোরজি সমর্থিত স্মার্টফোন ব্যবহার করেন। বাংলালিংক জানিয়েছে, এখনই অপারেটরটি দেশের দুটি বড় বিভাগীয় শহরে ফোরজি চালুর জন্য প্রস্তুত রয়েছে। রবি কর্তৃপক্ষ জানায়, তারা সবার চেয়ে উন্নত প্রযুক্তির ফোরজি সেবা দিতে প্রস্তুত। টেলিটকের এক কর্মকর্তা বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, টেলিটকের যত সিম এখন বাজারে ও গ্রাহকের হাতে রয়েছে, তার ৯০ ভাগ ফোরজি সিম। নেটওয়ার্কও  প্রায় ‘রেডি’। মোবাইল অপারেটরগুলোর সূত্রে জানা গেছে, ফোরজি সিম পরিবর্তন ও প্যাকেজের ঘোষণা সময় মতো জানানো হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ফোরজিতে গতি কত হবে, সেটাই এখন সর্বত্র মূল আলোচ্য বিষয়। যদিও এখন দেশে  থ্রিজির গড় গতি বলা হচ্ছে ৩ দশমিক ৭৫ এমবিপিএস (মেগা বাইট পার সেকেন্ড)। ফোরজিতে সেই গতি ১০ এমবিপিএস ছাড়িয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর আগে ফোরজির অনুমোদনের সময় জানানো হয়— দেশে ফোরজির গতি হবে ২০ এমবিপিএস। যদিও পরে এই গতিও সংশোধন করা হয়েছে। তবে ফোরজির গ্লোবাল স্ট্যান্ডার্ড গতি ১৬ এমবিপিএস।

 

Recommend to friends
  • gplus
  • pinterest

About the Author

Leave a comment