নির্বাচনি ট্রেন বিএনপির স্টেশনে থামবে না বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘সময় ও স্রোত কারও জন্য অপেক্ষা করে না।  আগামী (একাদশ) সংসদ নির্বাচনও কারও জন্য অপেক্ষা করবে না। নির্বাচনি ট্রেন বিএনপির স্টেশনে থামবে না। বিএনপি নির্বাচনে অংশ না নিলে তাদের রাজনৈতিক ভবিষ্যত অন্ধকার হয়ে যাবে। বিরল প্রাণীর মতো বিলুপ্ত হয়ে যাবে বিএনপি। পৃথিবীতে অনেক রাজনৈতিক দল বিলুপ্ত হয়ে গেছে। তাদের অবস্থা মুসলিম লীগের চেয়েও খারাপ হয়ে যাবে। ’

শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের সামনে ‘গণতন্ত্রের বিজয় দিবস’ উপলক্ষে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের জনসভায় ওবায়দুল কাদের এসব কথা বলেছেন। এসময় তিনি বলেন, ‘আজকের দিনটি আওয়ামী লীগের জন্য গণতন্ত্রের বিজয় দিবস আর বিএনপির জন্য রাজনৈতিক আত্মহত্যা দিবস।’

জনসভায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনের সমালোচনা করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘ড. কামাল হোসেন ও খালেদা জিয়া সরকার ও সংসদকে অবৈধ হিসেবে অভিহিত করেছেন। কিন্তু বিশ্বের দুটি বড় আন্তর্জাতিক সংস্থা ইন্টার পার্লামেন্টারি ইউনিয়ন (আইপিইউ) ও কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারি অ্যাসোসিয়েশন (সিপিএ) বাংলাদেশের পার্লামেন্টকে স্বীকৃতি দিয়েছে। শুধু তাই নয়, এ দুটি সংস্থার প্রধানও করা হয়েছে সংসদ সদস্য সাবের হোসেন চৌধুরী ও বাংলাদেশের সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীকে। তাহলে কীভাবে গণতন্ত্রের সংকট আছে? আপনারা নির্বাচনে অংশ নেন নি। গণতন্ত্র যদি না থাকতো তাহলে কী তারা বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিতো?’

পদ্মা সেতুকে জোড়াতালি দিয়ে বাসানো হচ্ছে বলে খালেদা জিয়ার মন্তব্যের জবাবে তিনি বলেন, ‘সেখানে পিলার উঠেছে, পিলারের ওপরের দুটি স্প্যান বসেছে, এটাতো এখন দৃশ্যমান। আর সেতুতে তো জোড়াতালি লাগবেই, জোড়াতালি ছাড়া তো সেতু হবে না। জোড়াতালি ছাড়া কি সেতু হয়?’

খালেদা জিয়ার ‘পদ্মা সেতুতে কেউ উঠবে না’ মন্তব্যের জবাবে তিনি বলেন, ‘পদ্মা সেতুতে সবাই উঠবে, উনি না উঠলে ফেরি আছে, ফেরিতে করে যেতে পারেন।’

‘সাবমেরিন উদ্বোধনের পরই ডুবে গেছে’ খালেদা জিয়ার এমন মন্তব্যের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘সাবমেরিন তো ডুবেই থাকে। মামলায় হাজিরা দিতে দিতে উনার (খালেদা জিয়ার)  মাথা নষ্ট হয়ে গেছে। তাই তিনি এসব বলেছেন।’

আগামীকাল শনিবার (৬ জানুয়ারি) বিএনপির ডাকা আন্দোলন কর্মসূচির প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, ‘বিএনপি নেতাদের ক্ষোভ- কর্মীরা মাঠে নামে না। কর্মীদের ক্ষোভ- নেতারা মাঠে নামে না। নেতারা বলে কর্মীরা, আবার কর্মীরা বলে নেতারা। তাহলে কাল তাদের বিক্ষোভ করবে কে?’ কিছু কর্মী মাঝে মাঝে রাস্তায় নামলেও নেতারা এসি রুমে বসে হিন্দি ছবি দেখে সময় কাটান বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আয়োজিত জনসভায় সভাপতিত্ব করেন মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হাসনাত। এসময় আরও বক্তব্য রেখেছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ড. আবদুর রাজ্জাক, সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম ও এনামুল হক শামীম, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, উপ-প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিনসহ আরও অনেকে। এছাড়াও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য রাখেন।

 

 

Recommend to friends
  • gplus
  • pinterest

About the Author

Leave a comment