অবশেষে এলো সেই কাঙ্খিত সময়

১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭১। দুপুরে বসলো আত্মসর্পণের দলিল তৈরির বৈঠক। বিকেল পাঁচটার মধ্যেই শেষ সব আনুষ্ঠানিকতা। অবশেষে এলো সেই কাঙ্খিত ক্ষণ। পরাজয়ের দলিলে সই করলেন পাকিস্তানি জেনারেল। বিকেল ৫টা এক মিনিটেই বিশ্ববাসি জেনে গেলো বাঙালির বিজয়বার্তা।

জেনারেল নিয়াজির নির্দেশে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি বাহিনী ভোর পাঁচটা থেকে শুরু করে যুদ্ধ বিরতি।দুপুর একটা। জেনারেল হেড কোয়ার্টারে বসে আত্মসমর্পণের দলিল তৈরির বৈঠক। ঘন্টা খানেকের মধ্যেই আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে তেজগাঁও  বিমানবন্দরে এসে নামেন যৌথ বাহিনীর কমান্ডার জেনারেল অরোরা। তাকে অভিবাদনসহ অভ্যর্থণা জানান জেনারেল নিয়াজি।

৫টা এক মিনিট। আগেই তৈরি করা দলিলে মিত্র বাহিনীর পক্ষে স্বাক্ষর করলেন জেনারেল অরোরা। আর পরাজয় মেনে নিয়ে পাকিস্তানি জেনারেল নিয়াজির স্বাক্ষরের মধ্য দিয়েই আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি পেলো স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ। চূর্ণ হয়ে গেল  হানাদার পাকিস্তানিদের দম্ভ।

নয় মাসের রক্তক্ষয়ী সশস্ত্র সংগ্রামে বুকের তাজা রক্ত দিয়ে জীবন উৎস্বর্গ করলেন ত্রিশ লাখ বীর শহীদ। সম্ভ্রম হারালেন তিন লাখ মা-বোন। বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করে দেশকে করা হলো এতো সব হারানোর পর এলো সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ শেষে জাতির জীবনে এলো নতুন প্রভাত, এলো কাঙ্খিত স্বাধীনতা। নিজেদের ভাগ্য নিয়ন্ত্রণের অধিকার নিশ্চিত করে জাতি তার প্রিয় মাতৃভূমিতে উঁচু করে ধরলো লাল-সবুজ পতাকা।

 

 

Recommend to friends
  • gplus
  • pinterest

About the Author

Leave a comment