দ্য সিভিল কোর্টস-সংশোধন বিল সংসদে পাস

দেওয়ানি মামলা বিচারের ক্ষেত্রে নিম্ন আদালতের বিচারকদের আর্থিক বিচারিক এখতিয়ার বাড়িয়ে দ্য সিভিল কোর্টস-সংশোধন বিল সংসদে পাস হয়েছে। সংশোধিত আইনে আর্থিক বিচারিক এখতিয়ার ক্ষেত্র ভেদে বিদ্যমান আইনের ছয় থেকে সাত গুণ বাড়ানো হয়েছে।

বুধবার (২৭ জানুয়ারি) স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে শুরু হওয়া অধিবেশনে বিলটি পাসের প্রস্তাব করেন আইন বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক। পরে বিলটি কণ্ঠভোটে পাস হয়।

এর ফলে এখন থেকে সহকারী জজগণ সর্বোচ্চ ১৫ লাখ টাকা মূল্যমানের মামলা নিষ্পত্তি করতে পারবেন। আর জ্যেষ্ঠ সহকারী জজের বিচারিক এখতিয়ার চার লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫ লাখ এবং আপিল শুনানির ক্ষেত্রে জেলা জজের এখতিয়ার পাঁচ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে পাঁচ কোটি টাকা করা হয়েছে।  

বিলে সহকারি জজ ও সিনিয়র সহকারি জজের বর্তমান আর্থিক এখতিয়ার যথাক্রমে ২ লাখ ও ৪ লাখ টাকা থেকে বৃদ্ধি করে ১৫ লাখ এবং ২৫ লাখ টাকা করার বিধান করা হয়েছে। এছাড়া বিলে ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত ডিক্রির মামলার আপিল কার্যক্রম বর্তমানের হাইকোর্টে স্থানান্তরের পরিবর্তে জেলা আদালতের এখতিয়ারে আনার বিধান করা হয়েছ। তবে ইতোমধ্যে এ ধরনের যেসব মামলা হাইকোর্টে বিচারাধীন রয়েছে সেগুলোর কার্যক্রম জেলা আদালতে স্থানান্তর হবে না বলে বিলে বিধান করা হয়েছে।

জাতীয় পার্টির ফখরুল ইমাম, মুজিবুল হক, পীর ফজলুর রহমান, শামীম হায়দার পাটোয়ারী, বেগম রওশন আরা মান্নান, বিএনপির হারুনুর রশীদ, রুমীন ফারহানা, গণফোরামের মোকাব্বির খান এবং স্বতন্ত্র সদস্য রেজাউল করিম বাবলু বিলের ওপর জনমত যাচাই, বাছাই কমিটিতে প্রেরণ ও সংশোধনী প্রস্তাব আনলে তা কন্ঠ ভোটে নাকচ হয়ে যায়।

বিলে ২০১৬ সালের ওই সংশোধন রহিত করে একটি ধারা সংযোজন করা হয়েছে। সরকার ২০১৬ সালেও টাকার অঙ্কে বিচারিক এখতিয়ার একই পরিমাণ বাড়িয়ে আইন সংশোধন করেছিলো। কিন্তু তার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে একটি রিট আবেদন হলে হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ সরকারের ওই গেজেটের কার্যকারিতা স্থগিত করে দেয়।

বর্তমানে পাঁচ কোটি টাকার কোনো আপিলের শুনানি হাইকোর্ট করলেও সংশোধিত আইনটি পাস হলে জেলা জজই সেই আপিল শুনানি করতে পারবেন বলে এ বিলে বিধান রাখা হয়েছে।

Recommend to friends
  • gplus
  • pinterest

About the Author