সবাই মাথাগোঁজার ঠাই পাবে

সরকারের আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় একসঙ্গে প্রায় ৭০ হাজার পরিবারকে জমিসহ ঘর বুঝিয়ে দিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শনিবার (২৩ জানুয়ারি) সকালে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে কর্মসূচি উদ্বোধন করেন তিনি। বলেন, গৃহহীন পরিবারকে ঘর-জমি উপহার দেয়া মুজিববর্ষের সবচেয়ে বড় উৎসব। শিগগিরই আরো এক লাখ পরিবার মাথাগোজার ঠাই পাবেন বলে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সবার মানসম্মত জীবন নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য।

গৃহহীন ও ভূমিহীন পরিবারের জন্য ১ হাজার ১৬৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ৬৬ হাজার ১৮৯টি বাড়ি নির্মাণ করেছে সরকার। এটি এমন এক পদক্ষেপ যা প্রথমবারের মতো দেখল বিশ্ব। বাড়িগুলোর প্রতিটি ইউনিটে দুটি কক্ষ, একটি রান্নাঘর, একটি টয়লেট এবং বারান্দা রয়েছে, যা নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। আগামী মাসে দরিদ্রদের মাঝে আরও এক লাখ বাড়ি বিতরণ করা হবে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, ৯৬ সালে প্রথমবারের মতো ক্ষমতায় আসার পরই অসহায় এবং দরিদ্র মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের চেষ্টা করে আওয়ামী লীগ সরকার। যদিও ক্ষমতার পালাবদলে মুখ থুবড়ে পড়ে তা।

২০০৮ সালে আবারও সরকার গঠন করলে থুবড়ে পড়া প্রকল্পকে জাগিয়ে তোলার কাজ শুরু করে আওয়ামী লীগ। মুজিববর্ষ এবং স্বাধীনতার সূবর্ণজয়ন্তীতে দেশের একটি মানুষও গৃহহীন থাকবে না, বলে জানান সরকার প্রধান।

আজ বাড়ির পাশাপাশি ৬৬ হাজার ১৮৯টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের প্রত্যেকের কাছেই হস্তান্তর করা হয়েছে তাদের বাড়ির জমির মালিকানার দলিলও। বাড়ির সবগুলোই নির্মিত হয়েছে সরকারি খাস জমিতে। পাশাপাশি, মুজিববর্ষের সময় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আশ্রয়ণ প্রকল্পের অধীনে ২১ জেলার ৩৬ উপজেলায় ৪৪টি প্রকল্পের আওতায় ৭৪৩টি ব্যারাক নির্মাণ করে ৩৭১৫টি পরিবারকে পুনর্বাসিত করা হবে।

ভূমি ও গৃহহীনদের পুনর্বাসন, ঋণ প্রদান, প্রশিক্ষণের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহে সক্ষম করে গড়ে তোলা এবং আয় বাড়ে এমন কার্যক্রম সৃষ্টির মাধ্যমে দরিদ্র দূর করাই এ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য। তাছাড়া প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও তুলে ধরেণ অভিজ্ঞতা। জানান ঘর নির্মাণ করেই শেষ নয়-প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে এসব মানুষের সার্বিক জীবনমানে কাজ করবেন তারা।

২০২০ সালে ৮ লাখ ৮৫ হাজার ৬২২টি পরিবারের তালিকা তৈরি করা হয়। যার মধ্যে ২ লাখ ৯৩ হাজার ৩৬১টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবার এবং ৫ লাখ ৯২ হাজার ২৬১টি পরিবার রয়েছে যাদের ১ থেকে ১০ শতক জমি আছে কিন্তু আবাসন ব্যবস্থা নেই। আশ্রয়ণ প্রকল্পের মাধ্যমে ১৯৯৭ থেকে ২০২০ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ৩ লাখ ২০ হাজার ৫৮টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে পুনর্বাসিত করা হয়েছে। আশ্রায়ণ-২ প্রকল্পের সময়কাল জুলাই ২০১০ থেকে জুন ২০২২ পর্যন্ত।

এই সময়ের মধ্যে ৪৮৪০.২৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ২ লাখ ৫০ হাজার ভূমিহীন, গৃহহীন ও বাস্তুচ্যুত পরিবারকে পুনর্বাসনের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। এটি, জুলাই ২০১০ থেকে ২০১৯ সালের জুন পর্যন্ত সারা দেশে ১ লাখ ৯২ হাজার ২৭৭টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে পুনর্বাসিত করেছে। মোট ৪৮ হাজার ৫০০ ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে ব্যারাকে পুনর্বাসিত করা হয়েছে এবং ১ লাখ ৪৩ হাজার ৭৭৭টি পরিবার যাদের নিজস্ব জমি রয়েছে (১ থেকে ১০ শতাংশ) কিন্তু বাড়ি নির্মাণের সামর্থ নেই তাদের আধা-ব্যারাক, বিশেষভাবে নকশা করা বাড়িগুলো পুনর্বাসন করা হয়েছে।

সরকার আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় গৃহহীন এবং ভূমিহীন পরিবারের জন্য আবাসন ব্যবস্থা করছে, যা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় পরিচালিত একটি আবাসন প্রকল্প। ২ লাখ ৯৩ হাজার ৩৬১টি গৃহহীন ও ভূমিহীন পরিবারের পাশাপাশি সারা দেশে ৫ লাখ ৯২ হাজার ২৬১টি গৃহহীন পরিবারকে তালিকাভুক্ত করেছে সরকার।

দেশে ভিটেমাটি-ঘর কিছুই নেই, এমন পরিবারের সংখ্যা ২ লাখ ৯৩ হাজার। আর জমি আছে কিন্তু থাকার ব্যবস্থা নেই ৫ লাখ ৯২ হাজার পরিবারের। সবমিলিয়ে এমন ৮ লাখ ৮৫ হাজার পরিবারকে মুজিববর্ষ উপলক্ষে বিনামূল্যে জমিসহ ঘর করে দিচ্ছে সরকার।

Recommend to friends
  • gplus
  • pinterest

About the Author