ঘুরে দাঁড়িয়েছে দেশের অর্থনীতি: রাষ্ট্রপতি

মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত দেশ গঠনে দলমত নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ।

সোমবার (১৮ জানুয়ারি) সংসদের একাদশ অধিবেশনের শুরুতে দেয়া ভাষণে এ আহ্বান জানান তিনি। সরকারের পদক্ষেপে করোনার মধ্যেও দেশের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়িয়েছে বলে মন্তব্য করেন রাষ্ট্রপতি। বলেন, করোনার এই ক্রান্তিকালেও দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৪৩ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে।

বৈশ্বিক মহামারী করোনার মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দক্ষ নেতৃত্বের কারণে দেশে একজন মানুষও না খেয়ে মরেনি, এমন মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ আবদুল হামিদ।

এরআগে, স্বাস্থ্যবিধি মেনে স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্ব শুরু হয় অধিবেশন। করোনা পরিস্থিতিতে এ অধিবেশনও সংক্ষিপ্ত হবে। বর্তমান সংসদের একাদশ এবং ২০২১ সালের প্রথম অধিবেশনের শুরুতে, সংসদ সদস্য, মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীসহ মৃত্যুবরণকারী বিশিষ্টজনদের স্মরণে শোকপ্রস্তাব গ্রহণ করা হয়।

রীতি অনুযায়ী পরে ভাষণ দেন
রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ। বিভিন্ন খাতে সরকারের উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন,
শেখ হাসিনার দৃঢ় নেতৃত্ব আর সাহসী পদক্ষেপে করোনার ধকল কাটিয়ে স্থিতিশীল রয়েছে
দেশের অর্থনীতি।

দেশে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে সবার সহযোগিতাও চান রাষ্ট্রপতি। জনগণের অধিকার নিশ্চিতে সংসদকে আরো ভূমিকা রাখার আহবান জানান রাষ্ট্রপ্রধান। এ সময়, দুর্নীতি ও মাদক ও জঙ্গীবাদের বিরুদ্ধে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি বিশ্বজুড়ে সমাদৃত হচ্ছে বলেও জানান রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ।

রাষ্ট্রপতি বলেন, দেশ ও জাতির অগ্রযাত্রা বেগবান করতে শত প্রতিকূলতার মধ্যেও সুশাসন সুসংহতকরণ, গণতন্ত্র চর্চা ও উন্নয়ন কর্মসূচিতে সর্বস্তরের জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সরকারের নিরলস প্রয়াস অব্যাহত রয়েছে। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের ‘সোনার বাংলা’ গড়ে তুলতে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমুন্নত রেখে দেশ থেকে দুর্নীতি, মাদক, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ নির্মূলের লক্ষ্যে আমাদের আরও ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। আসুন, দল-মত-পথের পার্থক্য ভুলে ধর্ম-বর্ণ-গোত্র নির্বিশেষে শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে আমরা লাখো শহীদের রক্তের ঋণ পরিশোধ করি।

তিনি আরও বলেন, আমরা আজ স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর দ্বারপ্রান্তে। শান্তি, গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির যে পথে আমরা হাঁটছি, সে পথেই আমাদের আরও এগিয়ে যেতে হবে। এ বছর মধ্য-আয়ের দেশ হিসেবে আমরা স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালন করব। আমাদের লক্ষ্য ২০৪১ সালে বিশ্বসভায় একটি উন্নত-সমৃদ্ধ দেশের মর্যাদায় অভিষিক্ত হওয়া। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে জনগণের সর্বাত্মক অংশগ্রহণের মাধ্যমে আমরা একটি কল্যাণমূলক, উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে সক্ষম হবো। এ সময় জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় বিরোধীদলকে কার্যকর ভূমিকা রাখার কথাও বলেন তিনি।

Recommend to friends
  • gplus
  • pinterest

About the Author