বেতনের জন্য অভিভাকদের চাপ দেয়া যাবে না: শিল্প প্রতিমন্ত্রী

করোনার ধাক্কায় নড়বড়ে অবস্থা দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর। আয় কমে যাওয়ায় বা উপার্জনহীন হয়ে পড়ায় অনেক অভিভাবকের আর্থিক সক্ষমতা যেমন কমেছে, তেমনি স্কুল-কলেজ বন্ধ থাকায় শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন নিয়েও বিপাকে বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠান। এমতাবস্থায়, টিউশন ফি ৫০ শতাংশ মওকুফসহ বেশকিছু দাবি নিয়ে মনিপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজের পরিচালনা পর্ষদের সঙ্গে মতবিনিময়ে আসেন অভিভাবকরা।

ছাত্র-ছাত্রীদের বেতন ও অন্যান্য ফি পরিশোধে অভিভাবকদের চাপ না দিতে মনিপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজ কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন শিল্প প্রতিমন্ত্রী আলহাজ্ব কামাল আহমেদ মজুমদার। বলেন, বেতন ও অন্যান্য ফি পরিশোধে ব্যার্থতার কারণে একজন শিক্ষার্থীরও পরীক্ষা কিংবা প্রমোশন আটকানো যাবে না।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকালে প্রতিষ্ঠানটির কলেজ ক্যাম্পাসে অভিভাবকদের সঙ্গে মতবিনিময়ে তিনি বলেন, করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত অভিভাবকদের ত্রিশ থেকে পঞ্চাশ শতাংশ, প্রয়োজনে শতভাগ বেতন মওকুফ করা হবে।

করোনা অতিমারী বিবেচনায় নিয়ে আলহাজ্ব কামাল আহমেদ মজুমদার বলেন, যারা এ সময়ে কর্ম হারিয়েছেন তাদের বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হবে। সেক্ষেত্রে চাকরি হারানোর প্রমাণ সহ আবেদন করতে হবে। তবে বেতন দিতে সক্ষম এমন কেউ বেতন মওকুফের সুবিধা পাবেন না।

এরপর প্রতিমন্ত্রী বলেন, মনিপুরের মত একটি স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুন্ন হয় এমন কোন কর্মকাণ্ড থেকে সবাইকে বিরত থাকতে হবে। এসব নিয়ে মনিপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষকে কিছু নির্দেশনা দেন তিনি। বলেন, আর্থিক সঙ্কটে থাকা কোন শিক্ষার্থীর অভিভাবককে বেতনের জন্য চাপ দেয়া কিংবা প্রমোশন বন্ধ করা যাবে না। অভিভাবকরা তার বক্তব্যকে স্বাগত জানালেও আলাদা আবেদনসহ কিছু বিষয়ে আপত্তি তোলেন।

তিনি আরও বলেন, সামগ্রিক পরিস্থিতি আরো যাচাই বাছাইয়ের জন্য আগামী বৃহস্পতিবার পর্যন্ত নতুন কিছু বিষয় বিবেচনার কথাও বলেন তিনি। এ সময়ের মধ্যে সরকারের নতুন কোন নির্দেশনা থাকলে তাও প্রতিপালন করা হবে।

প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষসহ বিশিষ্টজনেরা
বললেন, অভিভাবকের পাশাপাশি শিক্ষকদেরও ভালো থাকার অধিকার আছে। সুতরাং সক্ষম ব্যক্তিদের
জন্য বেতন মওকুফ চাওয়া সমীচিন নয়।

Recommend to friends
  • gplus
  • pinterest

About the Author