মাকে হত্যা করে লাশ ৫ খণ্ড

নোয়াখালীর সুবর্ণচরে ঋণের টাকা শোধ নিয়ে ঝগড়ায় মাকেই হত্যা করেন ছেলে। সহযোগিতা নেন আরও ৪ জনের। মরদেহ উদ্ধারের দুই সপ্তাহ পর রহস্য উদঘাটন করলো পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দুপুরে নোয়াখালীতে সংবাদ সম্মেলনে, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আনোয়ার হোসেন বলেন, ৬ অক্টোবর রাতে, চার সহযোগীকে নিয়ে মাকে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করে ছেলে হুমায়ুন। পরে মরদেহ পাঁচ খণ্ড করে ফেলে দেন ধান ক্ষেতে।

গত ৭ অক্টোবর নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার চরজব্বার ইউনিয়নের জাহাজমারা গ্রামের বিল থেকে নূরজাহানের পাঁচ খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

১৫ দিন পর বৃহস্পতিবার এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছেলেসহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। যার মধ্যে দুজন আদালতের ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। এ সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বঁটি, চাপাতি, কোদাল, বালিশ ও নিহতের পরনের শাড়ি উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন- নিহত নারীর ছেলে হুমায়ন কবির (২৮), তার মামাতো ভাই কালাম প্রকাশ মামুন (২৬), মামাতো বোনের স্বামী সুমন (২৫), হুমায়নের বন্ধু নীরব ও প্রতিবেশী কসাই নূর ইসলাম (৩৮)।
ডিআইজি জানান, গত ৭ অক্টোবর বিকালে সুবর্ণচরের জাহাজমারা গ্রামের একটি বিলের মাঝের বিভিন্ন ক্ষেত থেকে নূরজাহান নামে ওই গৃহবধূর পাঁচ খণ্ডিত করা মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পর দিন তার ছেলে হুমায়ন কবির বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা একাধিক ব্যক্তিকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেন।

জেলা পুলিশ সুপার আলমগীর হোসেন বলেন, অভিযানকালে সন্দেহজনকভাবে মৃত নারীর ছেলে হুমায়ন কবির হুমার বন্ধু নীরব ও প্রতিবেশী কসাই নূর ইসলামকে আটক করা হয়। তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বঁটি, চাপাতি, কোদাল, বালিশ ও মৃতের পরনের শাড়ি উদ্ধার করা হয়। পরে তারা দুজন স্বেচ্ছায় তাদের অপরাধ স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় আদালতে জবানবন্দি প্রদান করেন।

তাদের জবানবন্দির ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী আগের মামলার
বাদী ও মৃত নারীর ছেলে হুমায়ন কবিরকে গ্রেফতার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে
হুমায়নের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত তার মামাতো ভাই
কালাম প্রকাশ মামুন, মামাতো বোনের স্বামী সুমনকে গ্রেফতার করা হয়।

এসপি আরও বলেন, হুমায়ন কবিরের সৎভাই বেলাল গত দেড় বছর আগে ইটভাটায় মারা যান। মৃত্যুর আগে বেলালের গরু, পুকুরের মাছ ক্রয়-বিক্রয়, ব্যবসার পুঁজির জন্য মা নূরজাহানকে জিম্মাদার রেখে চার লাখ টাকা সুদ নেন। ওই টাকা পরিশোধ করার আগে মারা যান বেলাল। বেলালের মৃত্যুর পর পাওনাদাররা ওই টাকার জন্য হুমায়ন ও তার মাকে চাপ দিতে থাকেন।

এ নিয়ে তাদের মধ্যে প্রায় ঝগড়া হতো। এর মধ্যে তার মামা দুলাল মাঝির কাছ থেকে পাওয়া ৬২ হাজার ৫০০ টাকার জন্য প্রায় জোর করত নূরজাহান। এসব বিষয় নিয়ে তার দুলালের ছেলে কালাম ও মেয়ের জামাই সুমন নূরজাহানের ওপর ক্ষিপ্ত ছিল। আর এই ক্ষিপ্ততার জের ধরে হুমায়ন, কালাম, সুমন, প্রতিবেশী ইসমাইল, হামিদসহ মোট সাতজন এ হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করে।

এদিকে, যশোরের মণিরামপুর উপজেলার ঢাকুরিয়া উত্তরপাড়ায় জোড়া খুনের রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। আটক এক যুবকের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী খুনে ব্যবহৃত চাকু ও নিহত একজনের মোবাইল ফোনও উদ্ধার হয়েছে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

Recommend to friends
  • gplus
  • pinterest

About the Author