বরফ গলে জীবন্ত হচ্ছে প্রাণঘাতি অনেক ভাইরাস

হু হু করে বরফ গলতে থাকায় হাজার সুপ্তাবস্থা থেকে জীবন্ত হতে শুরু করেছে প্রাণঘাতি নানারকম ভাইরাস। এর মধ্যে স্প্যানিশ ফ্লু, গুটি বসন্ত ও বিউবোনিক প্লেগের মত ভাইরাসও আছে বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। এসব ভাইরাস যদি কোন কারণে বিস্তার লাভ করে তবে মানবসভ্যতার জন্য বড় ধরনের বিপদ ডেকে আনতে পারে বলে আশঙ্কা জানিয়েছেন তারা।

গেল ২ অক্টোবর প্রকাশিত সান্টিয়াগো ডি চিলি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণা তথ্যমতে, গত তিন দশকের মধ্যে আন্টার্কটিক উপদ্বীপে ২০২০ সাল বা চলতি বছরইসবচেয়ে উষ্ণতম।

অন্যদিকে কিং জর্জ দ্বীপের চিলিয়ান এয়ারফোর্সের ফ্রেই বেসের গবেষকরা জানিয়েছেন, জানুয়ারি থেকে আগস্টের মধ্যে উপদ্বীপে তাপমাত্রা ২ থেকে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস  বা ৩৫.৬ এবং ৩৭.৪ ডিগ্রি ফারেনহাইটে পৌঁছায়, যা মূল ভূখণ্ড আন্টার্কটিকার উত্তরতম অংশ।

পৃথিবীর একেবারে উত্তরে এতটা উষ্ণতা বৃদ্ধি বরফ গলিয়ে সাগরতলের উচ্চতা বাড়াতে পারে। বিস্মিত গবেষকরা বলছেন, এ তাপমাত্রা ‌স্বাভাবিকের চেয়ে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি ‌এবং গত ৩১ বছরে কখনও দেখা যায়নি। অ্যান্টার্কটিকার বরফ গলতে থাকায় উন্মুক্ত হচ্ছে হাজার বছরের পুরনো মৃতদেহ। আর জমাট বরফে সুপ্তাবস্থায় থাকা ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া জীবন্ত হতে শুরু করেছে বলে জানান জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবশ বিজ্ঞান বিভাগের প্রফেসর ড. এম আমির হোসেন ভূঁইয়া এবং প্রফেসর ড. এ কে এম রাশেদুল আলম।

আলাস্কার তুন্দ্রায় বরফের নীচে স্প্যানিশ ফ্লু ভাইরাসের জেনেটিক অংশ এবং সাইবেরিয়ায় গুটি বসন্ত ও বিউবোনিক প্লেগের ভাইরাসও মিলেছে বলে জানান জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবশ বিজ্ঞান বিভাগের প্রফেসর ড. সাফি মো. তারেক এবং অনুজীব বিজ্ঞানী প্রফেসর ড. ফিরোজ আহমেদ, অনুজীব বিজ্ঞানী।

সার্স, মার্স, ইবোলা, এইডস ইত্যাদি ভাইরাস প্রাণী থেকে মানবদেহে সংক্রমিত হয়েছিল।
বিশ্বকে রক্ষায়, তাই তাপমাত্রা কমানোর পাশাপাশি সবুজায়নের ওপর গুরুত্বরোপ
করেছেন বিজ্ঞানীরা।

Recommend to friends
  • gplus
  • pinterest

About the Author