নদী ভাঙনরোধে মহাপরিকল্পনা

সারাদেশে নদী ভাঙনরোধে মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। এমনটি জানিয়েছেন পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক। ভাঙন কবলিত লক্ষ্মীপুরের কমলনগর ও রামগতির বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করে তিনি এ কথা বলেন। দুই উপজেলাকে মেঘনার ভাঙন থেকে রক্ষায় আড়াইশ কোটি টাকার প্রকল্পের কাজ চলছে বলে জানান পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী। ৩২ কিলোমিটারের একটি স্থায়ী বেড়ীবাঁধ নির্মাণে ৩ হাজার ২শ’ কোটি টাকার একটি প্রকল্প পাশের অপেক্ষায় একনেকে আছে বলেও জানান তিনি।

পদ্মা, যমুনা, তিস্তা, ব্রাক্ষপুত্র, ধরলা, দুধকুমারসহ কয়েকটি নদীর
ভাঙনে বিলিন হয়েছে দেশের স্কুল, কলেজ, মাদরাসা, মসজিদসহ লাখ লাখ পরিবারে
ঘরবাড়ি। এ জন্য সারাদেশের নদী ভাঙন প্রতিরোধে মহাপরিকল্পনা নিয়েছে সরকার।

ভাঙন ঠেকাতে নদীর চরিত্র বুঝে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ভাঙন থেকে রক্ষা করতে নদীর পাড়ে হুমকির মুখে থাকা স্কুল, কলেজ, মাদরাসা, মসজিদ সরিয়ে নেয়ারও নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

জানা যায়, গত ২০ বছরের সারাদেশের ৩৫টি জেলার ৮ হাজার স্কুল-কলেজ-মসজিদ এবং মাদরাসা তিস্তা, যমুনা, ব্রহ্মপুত্র, পদ্মা,মেঘনা নদীর ভাঙ্গনে বিলিন হয়ে গেছে। সবচেয়ে এবার বেশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি হয়েছে রংপুর বিভাগে। এর সংখ্যা ৭৬২টি। এরপর সিলেট বিভাগে ৬৩৫টি, বরিশাল বিভাগে ৩০২টি, ময়মনসিংহ বিভাগে ৪৪৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ২০০১ সাল থেকে গত ২০ বছরের দেশের ৩৫টি জেলার ৮ হাজার স্কুল-কলেজ-মাদরাসা এবং মসজিদ তিস্ত, যমুনা, ব্রহ্মপুত্র, পদ্ম, মেঘনা নদীর ভাঙ্গনে বিলিন হয়েছে বলে স্থানীয় জেলা প্রশাসক অফিসগুলো থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

দেশজুড়ে কয়েকশ নদ-নদী-উপনদী রয়েছে। সবচেয়ে বেশি ভাঙন-প্রবণ নদী হচ্ছে যমুনা, পদ্মা, মেঘনা। আর কম ভাঙ্গন নদীর মধ্যে ছিলো তিস্তা। সেই তিস্তা এবার প্রবণের মধ্যে পড়েছে। স্বাধীনতার পর থেকে নদী ভাঙনে এ দেশের সোয়া দুই লাখ হেক্টরের মতো জমি বিলীন হয়েছে। যমুনা নদীতে সাধারন মানুষ সব চেয়ে সর্বস্বাস্ত বেশি। বন্যার পানি কমতে শুরু করলেও নদী ভাঙন এবং ঘরবাড়ি ভেঙে যাওয়া মানুষ চরমদুভোগে পড়েছে লাখ লাখ মানুষ। অনেক মানুষ এখনো আশ্রয় কেন্দ্র এবং বাঁধে অবস্থান করছেন।

Recommend to friends
  • gplus
  • pinterest

About the Author