ফের রিমান্ডে রবিউল

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াহিদা খানম ও তার বাবার ওপর হামলার ঘটনায় আসামি রবিউলকে আরও তিন দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। এর আগে ছয় দিনের রিমান্ড শেষে বৃহস্পতিবার চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়।

রিমান্ড শেষে দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিতে রাজি হওয়ায় গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে দিনাজপুরের জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয় আসামিকে। কিন্তু পরে জবানবন্দি দিতে বেঁকে বসায় ফের রবিউলের রিমান্ডের আবেদন করে পুলিশ। শুনানি শেষে সন্ধ্যার পর বিচারক আঞ্জুমান আরার আদালত নতুন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন। পরে ফের আসামিকে ডিবি হেফাজতে নেয়া হয়।

এ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জেলা ডিবি পুলিশের ওসি ইমাম জাফর গণমাধ্যমকে জানান, আমরা আসামি রবিউলের ফের ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেছিলাম। আদালত তার ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। এর আগে ছয় দিনের রিমান্ড শেষে বেলা সাড়ে ১১টায় আসামি রবিউলকে কড়া পুলিশি প্রহরায় আদালতে আদালতে হাজির করা হয়।

রবিউলের দেয়া তথ্যমতে হামলায় ব্যবহৃত হাতুড়ি, লাঠি, মই, চাবিসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করেছে পুলিশ। একসাথে তার পরনের প্যান্ট, হাতের ছাপ সহ মোবাইলের লোকেশন বিষয়গুলো আলামত হিসেবে ঢাকায় প্রেরণ করা হয়েছে। এসব আলামত বিচারকার্যে সহায়ক হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

তার আগে ঘোড়াঘাটের ইউএনও ওয়াহিদা খানম ও তার বাবার ওপর হামলার ঘটনায় ইউএনও অফিসের বরখাস্তকৃত মালি রবিউল ইসলামকে গত ১২ সেপ্টেম্বর গ্রেফতার করে ছয় দিনের রিমান্ডে নেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দিনাজপুর ডিবি পুলিশের ওসি ইমাম জাফর। এই আসামিকে গ্রেফতারের পর পুলিশের উচ্চ পর্যায় থেকে দাবি করা হয়, চাকরি থেকে বরখাস্ত হওয়ার ক্ষোভ থেকেই ওই হামলার ঘটনা ঘটে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশের কাছে স্বীকারোক্তিও দিয়েছে। আসামির দেখানো মতে, হামলায় ব্যবহৃত হাতুড়ী ও চোরাই টাকাও রবিউলের কাছ থেকে উদ্ধার করার দাবি করে পুলিশ। এরপর এ চাঞ্চল্যকর মামলায় নতুন মোড় নেয়। কারণ এর আগে ঘটনার দুই দিনের মাথায় এক যুবলীগ কর্মীসহ তিন রং মিস্ত্রিকে গ্রেফতারের পর র‍্যাব দাবি করে, এরাই ওয়াহিদা ও তার বাবার ওপর হামলা করে। চুরির করতে গিয়ে এ হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে আসামিদের বরাত দিয়ে র‍্যাব জানিয়েছিল। কিন্তু নিছক চুরির ঘটনায় নৃশংস ওই হামলা মেনে নিতে পারছেন না প্রশাসনিক কর্মকর্তারা।

ওয়াহিদা খানম ও তার বাবা মুক্তিযোদ্ধা ওমর আলী শেখ বর্তমানে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত নিউরো সায়েন্স হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। আগের তাদের শারীরিক অবস্থা অনেকটাই ভালো বলে জানিয়েছেন সেখানকার চিকিৎসকরা। ওয়াহিদাকে শিগগিরই কেবিনে নেয়া হবে। গতকাল সপ্তাহে তাকে আইসিইই থেকে এইচডিইউতে আনা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ২ সেপ্টেম্বর রাতে সরকারি
বাসভবনে ঢুকে ঘোড়াঘাটের ইউএনও ও তার বাবাকে নির্মমভাবে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে
গুর’তর জখম করে দুর্বৃত্তরা। মুমূর্ষু ইউএনওকে উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার
অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকায় আনা হয়। ওই ঘটনায় ইউএনও ওয়াহিদা খানমের বড়ভাই শেখ
ফরিদ উদ্দীন বাদী হয়ে গত ৩ সেপ্টেম্বর রাতে ঘোড়াঘাট থানায় একটি মামলা
করেন। মামলাটি ইতোমধ্যে ঘোড়াঘাট থানা থেকে স্থানান্তর করে দিনাজপুর ডিবি
পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

Recommend to friends
  • gplus
  • pinterest

About the Author