বাজারে ঝাজঁ ছড়াচ্ছে পেয়াঁজ

বিভিন্ন রাজ্যে বন্যা, অভ্যন্তরীণ সংকট ও মূল্য বৃদ্ধির অযুহাতে গেল বছরের মতোই হুট করে বাংলাদেশে পেঁয়াজ রপ্তানী বন্ধ করে দেয় ভারত। আগে থেকে ঘোষণা ছাড়াই দেশটির এমন সিদ্ধান্তে অস্থির হয়ে উঠেছে দেশের বাজার। একদিনেই ৬০ টাকা বেড়ে পেঁয়াজের কেজি একশ ছাড়াল। এতে বিপাকে পড়েছেন সব শ্রেণির ক্রেতা। দু:চিন্তা বেড়েছে আমদানীকারদের। দেশটির আচমকা এমন সিদ্ধান্তে বিপাকে পড়েছেন আমদানিকারকরা। ভারত সীমান্তে আটকে আছে কয়েকশ পেঁয়াজবোঝাই ট্রাক। এলসি করা ১০ হাজার মেট্রিকটন পেঁয়াজ নিয়েও বাড়ছে দুশ্চিন্তা।

দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে সোমবার থেকে বন্ধ পেঁয়াজ আমদানি। এমন সিদ্ধান্তে দেশটির অভ্যন্তরে আটকে আছে পেঁয়াজ বোঝাই ৩শ’ ট্রাক। গত এক সপ্তাহ আগেও চট্টগ্রামের খুচরা বাজারে আমদানি করা প্রতি কেজি পেঁয়াজ মান ভেদে ২৫ থেকে ৩৫ টাকায় বিক্রি হলেও এখন বিক্রি হচ্ছে ৪৫ থেকে ৫০ টাকায়।

ব্যবসায়ী বলেন, বাজারের চাহিদার ওপর ভিত্তি করে আমরা পেঁযাজের দাম বাড়াই। কোনো কোনো সময় প্রতি কেজি পেঁয়জের দাম ৩০ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়। পেঁয়াজগুলো বন্দর থেকে এখানে আসার আগেই আমাদের ফোন করে একটি নির্দিষ্ট দাম নির্ধারণ করে দেন। আর আমরা চাইলে সেখানে আরো কিছু অতিরিক্ত দাম যোগ করে দেই।

জানা গেছে, খাতুনগঞ্জে প্রধানত হিলি স্থলবন্দর, চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ ও ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে পণ্য আসে। গত বছরের শেষের দিকে আমদানি করা প্রতি কেজি ৪২ টাকা দরে কেনা পেঁয়াজ খাতুনগঞ্জের আড়তে ১০০ থেকে ১১০ টাকায় বিক্রির প্রমাণ পায় জেলা প্রশাসন। এতে খাতুনগঞ্জ ও কক্সবাজারের ১৫ জনের একটি সিন্ডিকেট জড়িত থাকার প্রমাণ মেলে। এবারও দাম বাড়ার পেছনে তাদের কারো সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না তাও খতিয়ে দেখছে জেলা প্রশাসন।

জেলা প্রশাসন জানিয়েছে শুধু ফোনে দাম নির্ধারণ করে খাতুনগঞ্জের পেঁয়াজের বাজার অস্থির করার পেছনে আমদানিকারকরা জড়িত। হিলি স্থলবন্দরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও খাতুনগঞ্জে পেঁয়াজের দাম বাড়ার পেছনে আমদানিকারকদের জড়িত থাকার কথা জানিয়েছেন। ভারতের এমন সিদ্ধান্তের কারণে হিলি বন্দরের আমদানীকারকদের এলসি করা প্রায় ১০ হাজার মেট্রিক টন পেঁয়াজ দেশে আসা নিয়েও সঙ্কা দেখা দিয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, হিলি স্থলবন্দরে পেঁয়াজ আমদানিতে জড়িত আছেন ১৫
জন। তারা হলেন- মেসার্স রায়হান ট্রেডার্সের মো. শহিদুল ইসলাম, মেসার্স এমআর
ট্রেডার্সের মো. মনোয়ার হোসেন চৌধুরী, মেসার্স সততা বাণিজ্যালয়ের মো.
বাবলুর রহমান, মেসার্স সুমাইয়া এন্টারপ্রাইজের মো. সাইফুল ইসলাম, মেসার্স
জগদীশ চন্দ্র রায়ের শ্রীপদ, মেসার্স মারিয়া করপোরেশনের মো. মোবারক হোসেন,
মেসার্স টুম্পা ইন্টারন্যাশনালের মো. মামুনুর রশিদ লেবু, মেসার্স গোল্ডেন
এন্টারপ্রাইজের মো. লাবু মল্লিক, মেসার্স সালেহা ট্রেডার্সের মো. সেলিম
রেজা, মেসার্স ধ্রুব ফারিহা ট্রেডার্সের মো. নাজমুল আলম চৌধুরী, মেসার্স
সাদ ট্রেডার্সের মো. গোলাম মোর্শেদ শাহিন, মেসার্স বাবু এন্টারপ্রাইজের মো.
মাহফুজার রহমান বাবু, মেসার্স লাবীব ট্রেডার্সের মো. নুর আলম বাবু,
মেসার্স মনির ট্রেডার্সের মো. তোজাম্মেল হোসেন এবং মেসার্স তুবা
এন্টারপ্রাইজের মো. শাহজামাল হোসেন। এসব আমদানিকারকের মধ্যে কারা ফোনে ফোনে
খাতুনগঞ্জে পেঁয়াজের দাম বাড়ান এবং কারসাজিতে কারা জড়িত তা চিহ্নিত করতে
মাঠে নেমেছে জেলা প্রশাসন।

হিলি স্থলবন্দর আমদানি-রফতানিকারকরা জানান,ভারতের এমন সিদ্ধান্ত বড়ধরণের লোকসানের মুখে পড়বেন বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা। আর চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উমর ফারুক বলেন, সব তথ্য-উপাত্ত যাচাই-বাছাই করে জড়িতদের দ্রুত চিহ্নিত করা হবে।

Recommend to friends
  • gplus
  • pinterest

About the Author