খালেদা জিয়ার সাজা স্থগিতের মেয়াদ ছয় মাস বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন

আগের দুটি শর্তেই বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা
জিয়ার দণ্ড স্থগিতের আদেশ সরকারের নির্বাহী আদেশে ছয় মাস বাড়ানো হয়েছে।
খালেদা জিয়ার দণ্ডাদেশ শর্ত সাপেক্ষে আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে পরবর্তী ছয়
মাসের জন্য স্থগিত করে আজ মঙ্গলবার প্রজ্ঞাপন জারি করেছে স্বরাষ্ট্র
মন্ত্রণালয়।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা শরিফ মাহমুদ অপু আজ
মঙ্গলবার দুপুরে এ তথ্য নিশ্চিত করে এনটিভি অনলাইনকে বলেন, বিএনপির
চেয়ারপারসনের মুক্তির ক্ষেত্রে আগের দুটি শর্ত ছিল বিদেশ যেতে পারবেন না
এবং নিজ বাসায় থেকে চিকিৎসা নিতে হবে। এ দুটি শর্তে তাঁর (খালেদা জিয়া)
মুক্তির মেয়াদ আরো ছয় মাস বাড়ানো হয়েছে।  

গত ৩ সেপ্টেম্বর আইন মন্ত্রণালয় থেকে এ-সংক্রান্ত ফাইল অনুমোদন দিয়ে
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন সাপেক্ষে
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারির সিদ্ধান্ত নেয়।

এর আগে গত ৩ সেপ্টেম্বর আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছিলেন, ‘খালেদা জিয়ার
মুক্তির মেয়াদ শর্ত সাপেক্ষে আরো ছয় মাস বাড়ানোর সুপারিশ করেছি। বিদেশে
নিয়ে চিকিৎসার ব্যাপারে পরিষ্কারভাবে তারা এই আবেদনে কিছু চায়নি। এ ছাড়া
তারা স্থায়ী মুক্তির আবেদন করেছিল। সেখানে আমরা আইনগত দিক থেকে সাজা ছয়
মাস স্থগিত করে এ সময় পর্যন্ত তাঁর মুক্ত থাকার মেয়াদ বাড়ানোর মতামত
দিয়েছি।’

‘খালেদা জিয়া আগে যে শর্তে মুক্ত ছিলেন, এখনো সেই শর্তেই থাকবেন। বাসা ও দেশে থেকে তিনি চিকিৎসা নেবেন’, যোগ করেন আইনমন্ত্রী।

এর আগে গত ২৫ আগস্ট বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সাজা স্থগিতের
মেয়াদ বাড়ানোর জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা
হয়।

গত ২৫ মার্চ বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সাজা স্থগিতের আবেদনের
পরিপ্রেক্ষিতে সরকারের নির্বাহী আদেশে সাজা স্থগিত করে তাঁকে ছয় মাসের জন্য
মুক্তি দেয় সরকার। মুক্তির পর থেকেই গুলশানের বাসভবন ফিরোজায় আছেন তিনি,
সেখানেই চলছে তাঁর চিকিৎসা। তবে কোভিড-১৯ পরিস্থিতির কারণে খালেদা জিয়ার
চিকিৎসা ব্যাহত হচ্ছে, এমনটা জানিয়ে তাঁর ছোট ভাই শামীম এস্কান্দার সাজা
স্থগিতের মেয়াদ বাড়ানোর জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে
আবেদন করেন। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর খালেদা জিয়ার ছয় মাসের মুক্তির মেয়াদ শেষ
হবে।

২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে দুই বছরের বেশি সময় ধরে কারাগারে ছিলেন
খালেদা জিয়া। এর মধ্যে ১১ মাস তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল
বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) চিকিৎসাধীন ছিলেন। বিএনপির চেয়ারপারসনের
বিরুদ্ধে ২০০৮ সালে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে
মামলা দায়ের হয়।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও চ্যারিটেবল ট্রাস্ট সম্পর্কিত দুটি দুর্নীতির মামলায় ১৭ বছরের সাজা নিয়ে খালেদা জিয়া কারাভোগ করছিলেন।

Recommend to friends
  • gplus
  • pinterest

About the Author