বিশ্বে করোনায় প্রাণহানি প্রায় ৯ লাখ ২০ হাজার

প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাসে সারাবিশ্বে মৃতের সংখ্যা ৯ লাখ ১৯ হাজার ৭১৫ জন। বাংলাদেশ সময় শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০ টার দিকে আন্তর্জাতিক জরিপ সংস্থা ওয়ার্ল্ডোমিটারস সূত্রে এ তথ্য জানা যায়।

প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, করোনাভাইরাস বৈশ্বিক মহামারিতে এ পর্যন্ত বিশ্বের ২১৫টি দেশ ও অঞ্চল আক্রান্ত হয়েছে। এ পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ২ কোটি ৮৬ লাখ ৫৯ হাজার ৬১০। এর মধ্যে ৯ লাখ ১৯ হাজার ৭১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। ইতোমধ্যে সুস্থ হয়ে উঠেছে ২ কোটি ৫ লাখ ৮৫ হাজার ৯৮১ জন।

আমেরিকার দুই মহাদেশ ও দক্ষিণ এশিয়ায় সংক্রমণ এখনও দ্রুত বাড়ছে।
অন্যদিকে ইউরোপকে লণ্ডভণ্ড করে দিয়ে করোনা কিছুটা স্তিমিত হলেও সেখানে
আবারও নতুন করে রোগটির প্রাদুর্ভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে। তবে আশার কথা হচ্ছে,
এখন আক্রান্তের পর সুস্থ হওয়ার হার দ্রুত বাড়ছে।

করোনার ভয়াবহ তান্ডবে দীর্ঘ হচ্ছে আক্রান্ত মৃতের সংখ্যা। গত ২৪ ঘণ্টায়ও ৩ লাখ ১০ হাজার ৭১৩ জনের দেহে শনাক্ত হয়েছে ভাইরাসটি। এ সময়ে মৃত্যু হয়েছে আরও ৫ হাজার ৮০৯ জন।

করোনায় ভুক্তভোগীদের মধ্যে সবার উপরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। যেখানে আক্রান্তের সংখ্যা ৬৬ লাখ ৩৬ হাজার ২৪৭ জনে দাঁড়িয়েছে। না ফেরার দেশে ১ লাখ ৯৭ হাজার ৪২১ জন মানুষ। ব্রাজিলে সংক্রমিতের সংখ্যা বেড়ে ৪২ লাখ ৮৩ হাজার ৯৭৮ জন। প্রাণহানি ১ লাখ ২৭ হাজার ৫১৭ জনে ঠেকেছে। 

সংক্রমণের দিকে থেকে দ্বিতীয় স্থানে থাকা দক্ষিণ এশিয়ার দেশ ভারতে আক্রান্তের
সংখ্যা ৪৬ লাখ ৫৯ হাজার ৯৪৮ জন। প্রাণহানি ঘটেছে ৭৭ হাজার ৫০৬
জনের। রাশিয়ায় সংক্রমিতের সংখ্যা ১০ লাখ ৫১ হাজার ৮৭৪ জন। দেশটিতে এখন
পর্যন্ত ১৮ হাজার ৩৬৫ জন মানুষের মৃত্যু হয়েছে করোনায়। 

এদিকে দক্ষিণ আফ্রিকায় সংক্রমিতের সংখ্যা ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৩৯৮ জন। আর মৃত্যু হয়েছে ১৫ হাজার ৩৭৮ জনের। লাতিন আমেরিকার আরেক দেশ পেরুতে আক্রান্ত ৭ লাখ ১৬ হাজার ৬৭০ জন। যেখানে মৃতের সংখ্যা ৩০ হাজার ৪৭০ জন। মেক্সিকোয় আক্রান্ত ৬ লাখ ৫৮ হাজার ২৯৯ জন। প্রাণ গেছে ৭০ হাজার ১৮৩ জনের।

সংক্রমণ বাড়ছে চিলিতে। আক্রান্তের সংখ্যা ৪ লাখ ৩০ হাজার ৫৩৫ জন। এর মধ্যে ১১ হাজার ৮৫০ জনের প্রাণ কেড়েছে করোনা। অন্যদিকে নিয়ন্ত্রণে আসা স্পেনে আক্রান্ত ৫ লাখ ৭৬ হাজার ৬৯৭ জন। প্রাণ গেছে সেখানে ২৯ হাজার ৭৪৭ জনের।

এদিকে যুক্তরাজ্যে সংক্রমিতের সংখ্যা ৩ লাখ ৬১ হাজার ৬৭৭ জন। এর মধ্যে প্রাণ গেছে ৪১ হাজার ৬১৪ জনের।

মধ্যপ্রাচ্যের ইসলামী প্রজাতান্ত্রিক দেশ ইরানে করোনার শিকার ৩ লাখ ৯৭ হাজার ৮০১ জন মানুষ। প্রাণহানি ঘটেছে ২২ হাজার ৯১৩ জনের। দক্ষিণ এশিয়ার দেশ পাকিস্তানে করোনার শিকার ৩ লাখ ৯৫৫ হাজারের অধিক। মৃত্যু হয়েছে ৬ হাজার ৩৭৩ জনের। 

সৌদি আরবে এখন পর্যন্ত করোনা রোগীর সংখ্যা ৩ লাখ ২৪ হাজার ৪০৭। এর মধ্যে প্রাণ হারিয়েছেন ৪ হাজার ২১৩ জন। ইতালিতে ২ লাখ ৮৪ হাজার ৭৯৬ জন করোনার ভুক্তভোগী। এর মধ্যে পৃথিবী ছেড়েছেন ৩৫ হাজার ৫৯৭ জন। তুরস্কে করোনার ভুক্তভোগী ২ লাখ ৮৮ হাজার ১২৬ জন মানুষ। যেখানে প্রাণহানি ঘটেছে ৬ হাজার ৯৫১ জনের। 

সব কিছুর পর আশার কথা হলো, গত ২৪ ঘণ্টায়ও ২ লাখ ৪০ হজার ৪৪৭ জন ভুক্তভোগী সুস্থ হয়েছে।
 
বাংলাদেশ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেয়া তথ্যমতে, শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা ৩ লাখ ৩৪ হাজার ৭৬২ জন। এর মধ্যে প্রাণহানি ঘটেছে ৪ হাজার ৬৬৪ জনের। আর সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরেছেন ২ লাখ ৩৬ হাজার ২৪ ভুক্তভোগী।

ইতোমধ্যে ইউরোপের কয়েকটি দেশ ও উৎপত্তিস্থল চীনে নিয়ন্ত্রণে ভাইরাসটি।
তবে দেশগুলো স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরলেও মুক্ত হচ্ছে না পুরোপুরি। এখনও
প্রতিদিনই কমবেশি সংক্রমণ ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে। 

গেল বছর ডিসেম্বরে চীনের হুবেই প্রদেশের রাজধানী উহান থেকে ছড়িয়ে পড়ে
করোনা ভাইরাস। উৎপত্তিস্থল চীনে ৮৩ হাজারেরও বেশি মানুষ আক্রান্ত হলেও
সেখানে ভাইরাসটির প্রাদুর্ভাব কমে গেছে। তবে বিশ্বের অন্যান্য দেশে এই
ভাইরাসের প্রকোপ বাড়ছে। চীনের বাইরে করোনা ভাইরাসের প্রকোপ বৃদ্ধি
পাওয়ার প্রেক্ষাপটে গত ১১ মার্চ বিশ্বব্যাপী মহামারি ঘোষণা করে বিশ্ব
স্বাস্থ্য
সংস্থা।

Recommend to friends
  • gplus
  • pinterest

About the Author