সেসব স্বাস্থ্যবিধি মেনে খেলায় ফিরতে হবে ক্রিকেটারদের

করোনা ভাইরাসের কারণে বন্ধ থাকার ১১৭ দিন পর শুরু হয়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট। ইংল্যান্ড-ওয়েস্ট ইন্ডিজের ম্যাচ দিয়ে মাঠে ফেরে নতুন নিয়মের
ক্রিকেট। করোনার প্রাদুর্ভাবে প্রায় চার মাস স্থগিত থাকা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট শুরু
হয় এই সিরিজ দিয়েই। ক্রিকেট নির্বাসনে যাওয়ার আগে শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচটি (অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ড ওয়ানডে) হয়েছিল ১৩ মার্চ। অপ্রত্যাশিত বিরতি শেষে ক্রিকেটের
প্রত্যাবর্তনে রোমাঞ্চিত গোটা ক্রিকেটবিশ্ব। তবে, নতুন বাস্তবতায় মাঠে বসে খেলা দেখার সুযোগ থাকছে না
দর্শকদের। পাশাপাশি করোনার
কারণে অনেক দিকনির্দেশনা জারি করেছে ক্রিকেটের প্রধান সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল
ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। নিয়মগুলো অক্ষরে-অক্ষরে পালন করতে হবে খেলোয়াড়দের। করোনাভাইরাসের
কারণে গত মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে ক্রিকেটের পাঁচটি নিয়ম বদলে ফেলে আইসিসি।
পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে না আসা পর্যন্ত ক্রিকেটের নতুন পাঁচটি নিয়ম অব্যাহত
থাকবে।  

১. বলে লালা ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা

২. করোনা সাব

৩. স্থানীয় আম্পায়ার দিয়ে খেলা পরিচালনা

৪. অতিরিক্ত রিভিউ সিস্টেমের অনুমতি

৫. জার্সিতে বাড়তি লোগোর ব্যবহার।

বলে থুতু ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা: করোনাভাইরাস পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত খেলোয়াড়রা ম্যাচ চলাকালীন বলে থুতু ব্যবহার করতে পারবে না। কেউ যদি অভ্যাসবশত ভুলে ব্যবহার করে ফেলেন, তাহলে আম্পায়াররা সতর্ক করে দেবেন। সতর্ক করার পরও একই কাজ বারবার করলে ব্যাটিং দলকে অতিরিক্ত পাঁচ রান দেয়া হবে। প্রতি ইনিংসে একটি দলকে সর্বোচ্চ দুবার সতর্ক করা হবে। ভুল করে থুতু ব্যবহার হলে সেটি ভালোভাবে জীবানুমুক্ত করে আবার খেলা শুরু করতে হবে।

করোনা সাব: গত অ্যাশেজ থেকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে চালু হয়
কনকাশন সাব। অর্থাৎ টেস্ট ম্যাচে কোন খেলোয়াড় মাথায় আঘাত পেলে তার পরিবর্তে নামানো
হয় একই ক্যাটাগরির অন্য খেলোয়াড়কে। সে নিয়মের সঙ্গে এবার যোগ হলো করোনা সাব। টেস্ট
ম্যাচ চলাকালীন কোনো খেলোয়াড়ের মধ্যে যদি করোনাভাইরাসের উপসর্গ দেখা যায় বা
আক্রান্ত খেলোয়াড় অসুস্থ হয়ে পড়ে, তবে ম্যাচ
রেফারির অনুমতি নিয়ে অন্য একজন খেলোয়াড়কে মাঠে নামানো যাবে। এ নিয়মটি শুধু টেস্টের
ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।

স্থানীয় আম্পায়ার দিয়ে খেলা পরিচালনা: সাধারণত দ্বিপক্ষীয় সিরিজে একজন নিরপেক্ষ দেশের আম্পায়ার থাকে। তবে করোনা-পরবর্তী সময়ে দ্বিপক্ষীয় সিরিজে যারা স্বাগতিক থাকবে, তারা স্থানীয় বা ম্যাচ খেলা দুই দেশের আম্পায়ারদের দিয়েই খেলা পরিচালনা করা যাবে। কারণ ভ্রমনে বিধি-নিষেধ থাকার কারণে নিরপেক্ষ আম্পায়ার দিয়ে এই মূর্হুতে ম্যাচ পরিচালনা সম্ভব নয়। তাই আইসিসিই তাদের আম্পায়ার ও ম্যাচ রেফারিদের প্যানেলভুক্ত আম্পায়ারদের মধ্য থেকে আম্পায়ার ও রেফারি ঠিক করে দিবে।

অতিরিক্ত ডিআরএস: সাধারণত টেস্টে ২টি, ওয়ানডে ও টি-২০ তে একটি করে ডিআরএস ব্যবহার হতো। কিন্তু করোনা-পরবর্তী টেস্টে প্রতি ইনিংসে তিনটি ডিআরএস, ওয়ানডে ও টি-২০-তে দুটি করে ডিআরএস নেওয়া যাবে। অর্থাৎ করোনার কারণে
তিন ফরম্যাটে একটি করে ডিআরএস বেড়ে গেল।

জার্সিতে বাড়তি লোগো: আগামী ১২ মাসের জন্য জার্সিতে বাড়তি লোগো ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে আইসিসি। তবে সেটি ৩২ স্কয়ার ইঞ্চির বেশি হতে পারবে না। খেলোয়াড়দের বুকে লোগো থাকবে। আগে টেস্টে এটি ব্যবহার হতো না। শুধু ব্যবহার হতো ওয়ানডেতে। এ ছাড়া বাকি তিনটি লোগো ব্যবহারের নিয়ম-নীতি আগের মতোই থাকবে।

রাজু আলাউদ্দিন

স্পোর্টস রিপোর্টার, মোহনা টেলিভিশন

Recommend to friends
  • gplus
  • pinterest

About the Author