বিশ্বে করোনায় প্রাণহানি ৭ লাখ ১৮ হাজারের বেশি

প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাসে সারাবিশ্বে মৃতের সংখ্যা ৭ লাখ ১৮ হাজার ৫১৩ জন। বাংলাদেশ সময় শুক্রবার (৭ আগষ্ট) সাড়ে ৭ টার দিকে আন্তর্জাতিক জরিপ সংস্থা ওয়ার্ল্ডোমিটারস সূত্রে এ তথ্য জানা যায়।

প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, করোনাভাইরাস বৈশ্বিক মহামারিতে এ পর্যন্ত বিশ্বের ২১৫টি দেশ ও অঞ্চল আক্রান্ত হয়েছে। এ পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১ কোটি ৯৩ লাখ ৩ হাজার ৫১৭। এর মধ্যে ৭ লাখ ১৮ হাজার ৫১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। ইতোমধ্যে সুস্থ হয়ে উঠেছে ১ কোটি ২৩ লাখ ৯৩ হাজার ৭৬৩ জন।

আমেরিকার দুই মহাদেশ ও দক্ষিণ এশিয়ায় সংক্রমণ এখনও দ্রুত বাড়ছে।
অন্যদিকে ইউরোপকে লণ্ডভণ্ড করে দিয়ে করোনা কিছুটা স্তিমিত হলেও সেখানে
আবারও নতুন করে রোগটির প্রাদুর্ভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে। তবে আশার কথা হচ্ছে,
এখন আক্রান্তের পর সুস্থ হওয়ার হার দ্রুত বাড়ছে।

করোনার ভয়াবহ তান্ডবে দীর্ঘ হচ্ছে আক্রান্ত মৃতের সংখ্যা। গত ২৪ ঘণ্টায়ও ২ লাখ ৮১ হাজার ২৩২ জনের দেহে শনাক্ত হয়েছে ভাইরাসটি। এ সময়ে মৃত্যু হয়েছে আরও ৬ হাজার ৪৫৩ জন।

করোনায় ভুক্তভোগীদের মধ্যে সবার উপরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। যেখানে আক্রান্তের সংখ্যা ৫০ লাখ ৩৩ হাজার ৭২৩ জনে দাঁড়িয়েছে। না ফেরার দেশে ১ লাখ ৬২ হাজার ৮৩৬ জন মানুষ। ব্রাজিলে সংক্রমিতের সংখ্যা বেড়ে ২৯ লাখ ১৭ হাজার ৫৬২ জন। প্রাণহানি ৯৮ হাজার ৬৪৪ জনে ঠেকেছে। 

সংক্রমণের দিকে থেকে তিনে থাকা দক্ষিণ এশিয়ার দেশ ভারতে আক্রান্তের
সংখ্যা ২০ লাখ ৩৫ হাজার ৩৩৭ জন। প্রাণহানি ঘটেছে ৪১ হাজার ৭১৩
জনের। রাশিয়ায় সংক্রমিতের সংখ্যা ৮ লাখ ৭৭ হাজার ১৩৫ জন। দেশটিতে এখন
পর্যন্ত ১৪ হাজার ৭২৫ জন মানুষের মৃত্যু হয়েছে করোনায়। 

এদিকে দক্ষিণ আফ্রিকায় সংক্রমিতের সংখ্যা ৫ লাখ ৩৮ হাজার ১৮৪ জন। আর মৃত্যু হয়েছে ৯ হাজার ৬০৪ জনের। লাতিন আমেরিকার আরেক দেশ পেরুতে আক্রান্ত ৪ লাখ ৫৫ হাজার ৪০৯ জন। যেখানে মৃতের সংখ্যা ২০ হাজার ৪২৪ জন। মেক্সিকোয় আক্রান্ত ৪ লাখ ৬২ হাজার ৬৯০ জন। প্রাণ গেছে ৫০ হাজার ৫১৭ জনের।

সংক্রমণ বাড়ছে চিলিতে। আক্রান্তের সংখ্যা ৩ লাখ ৬৬ হাজার ৬৭১ জন। এর মধ্যে ৯ হাজার ৮৮৯ জনের প্রাণ কেড়েছে করোনা। অন্যদিকে নিয়ন্ত্রণে আসা স্পেনে আক্রান্ত ৩ লাখ ৫৪ হাজার ৫৩০ জন। প্রাণ গেছে সেখানে ২৮ হাজার ৫০০ জনের।

এদিকে যুক্তরাজ্যে সংক্রমিতের সংখ্যা ৩ লাখ ৮ হাজার ১৩৪ জন। যেখানে মৃত্যু হয়েছে ৪৬ হাজার ৪১৩ জনের। 

মধ্যপ্রাচ্যের ইসলামী প্রজাতান্ত্রিক দেশ ইরানে করোনার শিকার ৩ লাখ ২২ হাজারের বেশি মানুষ। প্রাণহানি ঘটেছে ১৮ হাজার ১৩২ জনের। দক্ষিণ এশিয়ার দেশ পাকিস্তানে করোনার শিকার ২ লাখ ৮২ হাজারের অধিক। মৃত্যু হয়েছে ৬ হাজার ৫২ জনের। 

সৌদি আরবে এখন পর্যন্ত করোনা রোগীর সংখ্যা ২ লাখ ৮৫ হাজার ৭৯৩। এর মধ্যে প্রাণ হারিয়েছেন ৩ হাজার ৯৩ জন। ইতালিতে ২ লাখ ৪৯ হাজার ২০৩ জন করোনার ভুক্তভোগী। এর মধ্যে পৃথিবী ছেড়েছেন ৩৫ হাজার ১৮৭ জন। তুরস্কে করোনার ভুক্তভোগী ২ লাখ ৩৭ হাজার ২৬৫ জন মানুষ। যেখানে প্রাণহানি ঘটেছে ৫ হাজার ৭৯৮ জনের। 

সব কিছুর পর আশার কথা হলো, গত ২৪ ঘণ্টায়ও ১ লাখ ৯৩ হজার ৮৯৬ জন ভুক্তভোগী সুস্থ হয়েছে।
 
বাংলাদেশে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেয়া তথ্যমতে, শুক্রবার (৭ আগষ্ট) পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা ২ লাখ ৫২ হাজার ৫০২ জন। এর মধ্যে প্রাণহানি ঘটেছে ৩ হাজার ৩৩৩ জনের। আর সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরেছেন ১ লাখ ৪৫ হাজার ৫৮৪ ভুক্তভোগী।

ইতোমধ্যে ইউরোপের কয়েকটি দেশ ও উৎপত্তিস্থল চীনে নিয়ন্ত্রণে ভাইরাসটি।
তবে দেশগুলো স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরলেও মুক্ত হচ্ছে না পুরোপুরি। এখনও
প্রতিদিনই কমবেশি সংক্রমণ ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে। 

গেল বছর ডিসেম্বরে চীনের হুবেই প্রদেশের রাজধানী উহান থেকে ছড়িয়ে পড়ে
করোনা ভাইরাস। উৎপত্তিস্থল চীনে ৮৩ হাজারেরও বেশি মানুষ আক্রান্ত হলেও
সেখানে ভাইরাসটির প্রাদুর্ভাব কমে গেছে। তবে বিশ্বের অন্যান্য দেশে এই
ভাইরাসের প্রকোপ বাড়ছে। চীনের বাইরে করোনা ভাইরাসের প্রকোপ ১৩ গুণ বৃদ্ধি
পাওয়ার প্রেক্ষাপটে গত ১১ মার্চ বিশ্বব্যাপী মহামারি ঘোষণা করে বিশ্ব
স্বাস্থ্য

Recommend to friends
  • gplus
  • pinterest

About the Author