নির্বাচনে রাজপাকসের বিশাল জয়

শ্রীলঙ্কায় সাধারণ নির্বাচনে বড় জয় পেলো রাজাপাকসে পরিবার। নির্বাচনে ২২৫ টির মধ্যে ১৪৫ আসন পেয়ে জয়ী হয় রাজাপাকসে নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কা পডুজানা পার্টি, এসএলপিপি। বিরোধী দল পেয়েছে ৭৫টি আসন। শুক্রবার চূড়ান্ত ফলাফলে এ তথ্য নিশ্চিত করে নির্বাচন কমিশন।

বুথফেরত জরিপের আভাসকে সত্যি প্রমাণ করে শ্রীলঙ্কার পার্লামেন্ট
নির্বাচনে ‘বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা’ নিয়ে জয় পেয়েছে মাহিন্দ রাজাপাকসের দল।

শুক্রবার (৭ আগস্ট) তার ভাই ও বর্তমান প্রেসিডেন্ট গোটাবায়া রাজাপাকসে আনুষ্ঠানিক ফল ঘোষণা করেন। বিজয়ী দল শ্রীলঙ্কা পিপল’স ফ্রন্টকে (এসএলপিপি) সরকার গঠনের জন্য আহ্বানও জানানো হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, মাহিন্দ রাজাপাকসে আবারও প্রধানমন্ত্রী পদে আসীন হবেন। এর মধ্য দিয়ে শ্রীলঙ্কার মূল শাসনক্ষমতা রাজাপাকসে পরিবারের হাতে থেকে গেলো। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

নির্বাচনি প্রচারণার বড় অংশ জুড়ে ছিল সংবিধান সংশোধনের প্রতিশ্রুতি। তা বাস্তবায়ন করতে গেলে তাদেরকে ২২৫ আসনের পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে হতো। বুধবার অনুষ্ঠিত প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনে মাহিন্দ’র দল একাই ১৪৫টি আসনে জয়ী হয়েছে। আরও পাঁচটি আসনে জয়ী হয়েছে এসএলপিপি-র জোট সঙ্গীরা। মোট ১৫০টি আসন নিয়ে পার্লামেন্টে ‘সুপার মেজরিটি’ পাচ্ছে এসএলপিপি।

গেল বছর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিযুক্ত হয়েছিলেন মাহিন্দ। তবে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা তার ছিল না। দেশের প্রেসিডেন্ট তথা মাহিন্দর ভাই গোটাবায়া সংবিধান মুলতুবি করে তাকে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। এর মধ্য দিয়ে দেশে এক সাংবিধানিক সংকট তৈরি হয়। তবে এবার দুই তৃতীয়াংশেরও বেশি আসন জিতে সাংবিধানিক নিয়মে সরকার গঠন করতে চলেছেন মাহিন্দা। আর এর মধ্য দিয়ে সাংবিধানিক সংকট কাটলো বলে মনে করা হচ্ছে।

এবারের নির্বাচনে মাহিন্দর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী রানিল বিক্রমাসিংহে। তবে নির্বাচনে একেবারে ধরাশায়ী হয়েছেন তিনি। ১০৬টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে মাত্র ১টি আসনে জয় পেয়েছে বিক্রমাসিংহের দল। প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট রণসিংহে প্রেমদাসার ছেলে এবারই প্রথম নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। তার দলই পার্লামে্ন্টে প্রধান বিরোধী দলের মর্যাদা পেতে যাচ্ছে।

দুই দশক ধরে শ্রীলঙ্কার শাসন ক্ষমতায় রয়েছে রাজাপাকসে পরিবার। এর আগে ২০০৫ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট ছিলেন মাহিন্দ।

Recommend to friends
  • gplus
  • pinterest

About the Author