মাস্ক পরার পাশাপাশি মানতে হবে স্বাস্থ্যবিধি

করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে শুধু মাস্ক পরলেই হবে না, মেনে চলতে হবে স্বাস্থ্যবিধি। কারণ ঠিকমত পরতে না পারলে, মাস্কের ফাঁকফোকড় দিয়ে নিঃশ্বাসের সঙ্গে ফুসফুসে ঢুকতে পারে ভাইরাসটি। আবার যেহেতু চোখ দিয়েও সংক্রমিত হওয়ার আশঙ্কা আছে, তাই চশমা ব্যবহারের অভ্যাস করার পরামর্শ দিয়েছেন ডাক্তার ও বিজ্ঞানীরা।

সারা বিশ্বে মহামারি হয়ে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাস প্রতিরোধে লকডাউনের চেয়েও সবচেয়ে কার্যকর পন্থা হলো মাস্ক ব্যবহার করা। কারণ করোনাভাইরাস মূলত বাতাসে ড্রপলেটস বা মুখ থেকে নিঃসৃত মিহি জলকণার মাধ্যমে ছড়ায়। আর মাস্ক ব্যবহার করলে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি সংক্রমণ প্রতিরোধ করা যায় বলে নতুন এক গবেষণায় বলা হয়েছে। ১১ জুন প্রসিডিংস অব দ্য ন্যাশনাল একাডেমি অব সায়েন্সেসে এই গবেষণাবিষয়ক নিবন্ধ প্রকাশিত হয়।

গবেষণায় বলা হয়েছে, গবেষকরা ইতালি ও নিউইয়র্কে করোনা রোধে মাস্ক ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক করার আগে ও পরের করোনা সংক্রমণের হারের তুলনা করেছেন। সেখানে দেখা গেছে, দুই জায়গায়ই মানুষ বাধ্যতামূলকভাবে মাস্ক ব্যবহারের পর থেকে সংক্রমণ কমতে শুরু করে।

ব্যক্তি থেকে ব্যক্তিকে করোনার বিস্তার প্রতিরোধে সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো, ঘরের বাইরে মাস্ক ব্যবহার করা। ভ্যাকসিন আবিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত এর পাশাপাশি সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা,  কোয়ারেন্টিন ও কন্ট্যাক্ট ট্রেসিং করে কোভিড-১৯ এর প্রতিরোধে কাজ করে যেতে হবে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে পাবলিক প্লেসে
মাস্ক পরা উচিত। সংস্থাটি বলছে, নতুন গবেষণায় প্রকাশিত হয়েছে যে, মাস্ক
পরলে জীবাণু বহনকারী ড্রপলেট থেকে সুরক্ষা পাওয়া যায়।

করোনা সংক্রমণ ঠেকানোর কার্যকর
ব্যবস্থার একটি হচ্ছে মাস্ক ব্যবহার। তবে শুধুমাত্র কোভিড নাইনটিন নয়, মাস্ক ধুলোবালি
ও ক্ষতিকারক অন্যান্য ভাইরাস থেকেও সুরক্ষা দেয়।

হাত থেকে নাক বা মুখের মাধ্যমে
সংক্রমণ ঠেকাতে মাস্ক ব্যবহার করে সুফল পাওয়ার অসংখ্য নজির আছে।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে কিছুটা ঝুঁকি কমাতে পারে মাস্ক। কিন্তু পুরো সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পারে না। কারণ চোখের মাধ্যমেও হতে পারে সংক্রমণ।

কাজেই যেসব জায়গায় দূরত্ব মেনে চলা সম্ভব নয়, যেমন-গণপরিবহন, শরণার্থী শিবির, জনবহুল দোকানপাট, সেখানে ঘরে তৈরি করা মাস্ক পরলে সংক্রমিত হওয়ার সম্ভাবনা কমে।

বায়ুবাহিত ভাইরাসের সংক্রমণ
ঠেকাতে মাস্ক কতটা কার্যকর সে ব্যাপারে যথেষ্ট সংশয় আছে বিজ্ঞানীদের। কারণ
ঢিলেঢালা হওয়ার কারণে বেশিরভাগ মাস্কই  ঠিকঠাকমত বাতাস ফিল্টার করতে পারে না। তাই
করোনামুক্ত থাকতে মেনে চলতে হবে অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধিও।

Recommend to friends
  • gplus
  • pinterest

About the Author