ভাঙনের কবলে গলাচিপার  ঐতিহ্যবাহী দয়াময়ী মন্দির

সুতাবাড়িয়া নদীর ভাঙনের কবলে পড়েছে
পটুয়াখালী গলাচিপার ঐতিহ্যবাহী দয়াময়ী মন্দির। প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন হলেও এটি
রক্ষণাবেক্ষণে নেয়া হয়নি কোন উদ্যোগ। দ্রুত ভাঙন ঠেকানো না গেলে পুরো মন্দিরই
নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশংকা করছেন ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যসহ স্থানীয়রা।

বাংলা ১২০৮ সনে গলাচিপার সুতাবাড়িয়া গ্রামে প্রায় তিন একর
জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত হয় দয়াময়ী মন্দির। এক সময়, প্রত্নতাত্ত্বিক সৌন্দর্যে আকৃষ্ট
হয়ে দেশ-বিদেশের অগণিত মানুষ ছুটে আসতেন মন্দির দর্শনে। বিশেষ করে শীতকালে দর্শনার্থীদের
পদভারে মুখর থাকতো পুরো গ্রাম। সময়ের স্রোতে এখন মাত্র একদিনের জন্য মাঘী সপ্তমীতে
বসে মেলা।

রক্ষণাবেক্ষণ ও পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে ধ্বংসস্তুপে পরিণত হতে
চলেছে প্রায় ২শ বছরের পুরনো প্রত্নতাত্ত্বিক নির্দশনটি। এর উপর সুতাবাড়িয়া নদীর ভাঙনের
কবলে পড়েছে দেবী মন্দিরের অবশিষ্টাংশ।ইতোমধ্যে মন্দিরের সিংহ দরজা গেছে নদীগর্ভে।

মন্দিরটি প্রত্নতাত্ত্বিক অধিদপ্তরের তালিকাভুক্ত নির্দশন হলেও এটি রক্ষণাবেক্ষণে
কোন নেয়া হয়নি বলে জানালেন গলাচিপার প্রবীণ সাংবাদিক শংকর লাল দাস।

দয়াময়ী মন্দির রক্ষায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের দৃষ্টি আকর্ষণসহ নানা চেষ্টার
কথা জানান স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান।

সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে পদক্ষেপ নেয়ার আশ্বাস দিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

ভাঙনরোধ ও প্রয়োজনীয় সংস্কারের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ঐতিহ্যবাহী দয়াময়ী মন্দিরটি রক্ষা করবে, এমনটাই আশা এলাকাবাসীর।

উল্লেখ্য সুতাবাড়িয়া গ্রামে দুইশত বছরের পুরনো ঐতিহ্যবাহী দয়াময়ী মাঘি সপ্তমী মেলা হাজার হাজার দর্শনার্থীদের কোলাহলপূর্ণ উৎসব মুখর পরিবেশের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়। শুক্রবার ভোর ৬ টা থেকে কালী পুজা ও শিব পুজার মধ্য দিয়ে এ মেলার কার্যক্রম শুরু হয়। ভোর থেকে সন্ধা পর্যন্ত ঢাক-ঢোল, শঙ্খ সহ বিভিন্ন বাদ্য-বাজনা ও দর্শনার্থীদের কলরবে জেগে উঠে মেলা প্রাঙ্গন। মেলায় অনেক শিশুর বাৎসরিক মাথা মুন্ডন করা হয়।

Recommend to friends
  • gplus
  • pinterest

About the Author